রাজধানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের এক পা হারানোর ঘটনায় করা মামলায় আসামির নাম কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ মার্চ) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও নাজমুস সাকিব।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের চেয়ারম্যান বাড়ি ইউ টার্নে দ্রুতগতির একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বিজিবির সাবেক সদস্য মনোরঞ্জন হাজংয়ের মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি এখন রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তার কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক। তিনি সেপটিসেমিয়াতেও আক্রান্ত হয়েছেন।
একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত মনোরঞ্জন মহাখালী ডিওএইচএসে একটি প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। রাত ২টার দিকে সেখান থেকে নিকেতনের বাসায় ফেরার সময় চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ইউটার্ন নেওয়ার সময় পেছন থেকে দ্রুত গতিতে গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়।
ওই ঘটনায় মামলা করতে গত ১১ ডিসেম্বর বনানী থানায় গিয়েছিলেন মহুয়া হাজং। গাড়িটি এক প্রভাবশালীর ছেলে চালাচ্ছিল, এ কারণে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মহুয়া। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোটরসাইকেলের সঙ্গে ওই গাড়িটি জব্দ করলেও দুই দিন পর গাড়িটি ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরে গত ১৬ ডিসেম্বর ওই ঘটনায় ‘অজ্ঞাতনামা’ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় বনানী থানা পুলিশ। তবে মামলায় আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে মহুয়া হাজং রিট দায়ের করেন।