ভগ্নিপতির দেওয়া আগুনে দগ্ধ শিশুর মৃত্যু

আদাবরে ভগ্নিপতির দেওয়া আগুনে ভাই-বোন দগ্ধের ঘটনায় দগ্ধ বোন মিতু (১০) মারা গেছে। শিশুটি আজ শুক্রবার (১৮ মার্চ) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।  

সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, মিতুর শরীরের ৯৮ শতাংশ দগ্ধ ছিল। 

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর আদাবর সুনিবিড় হাউজিংয়ের একটি বাসায় ভগ্নিপতির দেওয়া আগুনে মিতু ও তার ৫ বছর বয়সী ভাই বাপ্পী দগ্ধ হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছিল।

বাড়ির মালিক আব্দুল মালেক জানায়, দুই বাসাটির নিচতলার ৭ নম্বর রুমে দগ্ধদের দুলাভাই রিকশাচালক আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী মৌ ভাড়া থাকেন। ঘটনার দিন দুপুরে সেখানে আগুন আগুন করে চিৎকার শুনে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

ওই বাসার নিচতলার বাসিন্দা ইলেকট্রিক দোকানের ভাড়াটিয়া আরিফ বলেন, ‘আমরা চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে ওই রুমের ছিটকিনি লাগনো। পরে ছিটকিনি খুলে তাদের শরীরে আগুন জ্বলতে দেখি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

দগ্ধ শিশু বাপ্পী জানায়, তাদের বাসা পাশেই। সেদিন দুলাভাই আলাউদ্দিন তাদের দুই ভাই-বোনকে ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। পরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা বাবুল তালুকদার পান বিক্রেতা ও মা আকলিমা পোশাক কারখানায় কাজ করে। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়।