মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর কবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত

লালবাগে আজিমপুরে মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর কবর থেকে মরদেহ তুলে গৃহবধূ সাবরিনা আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মাকসুদ। তিনি বলেন, বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। মর্গ সহকারী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গিয়ে পুনরায় দাফন করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ লালবাগের আবদুল আজিজ লেনে সাবরিনা আক্তার নামে ওই গৃহবধূ বাথরুমে পা পিছলে পড়ে মারা যান বলে তার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর ময়নাতদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে সাবরিনার মরদেহ দাফন করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু বিষয়টি সাবরিনার বাবার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে লালবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সাবরিনার স্বামী আজমাইন হোসেনকে আটক করে লালবাগ থানা পুলিশ।

সাবরিনার পরিবারের দাবি, তাদের উপস্থিতিতেই তড়িঘড়ি করে সাবরিনাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর সাবরিনার বাবা মো. হাসেম থানায় অভিযোগ করেন, সাবরিনার মুখ তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। তাদের সন্দেহ সাবরিনাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে সাবরিনার স্বামী আজমাইনকে আটক করা হয়। সাবরিনার বাবার অভিযোগটি হত্যা মামলা আকারে দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যদিও সাবরিনার স্বামী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লালবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মামলা দায়ের পর তদন্তের প্রয়োজনে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে আইনগত সব ব্যবস্থা আমরা নেবো।

তবে আজমাইনের পরিবারের দাবি, গত ১৩ মার্চ ভোর ৪টায় রাজধানীর লালবাগের আবদুল আজিজ লেনে নিজ বাসায় আজমাইন হোসেন স্ত্রী সাবরিনাকে না পেয়ে টয়লেটে খুঁজতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন টয়লেটে পড়ে মারা গেছেন সাবরিনা। সাবরিনা ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী।