সার্বিয়ায় মৃত বাদল খন্দকারের মরদেহ সরকারিভাবে দেশে আনা হবে

বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সার্বিয়া গিয়ে পথে মারা যাওয়া বাংলাদেশি কর্মী বাদল খন্দকারের মৃতদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হবে। ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মৃতদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অনুমোদন দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।

চার মাস আগে মেসার্স নুরজাহান রিক্রুটিং এজেন্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে সার্বিয়ায় যান ১৪ বাংলাদেশি কর্মী। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন সার্বিয়ান কোম্পানি ‘ভেকা প্লেনা’ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না পেয়ে হতাশায় পড়েন তারা। তাদের মধ্যে একজন মানিকগঞ্জের বাদল খন্দকার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পথেই মারা যান। ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস অনুসন্ধান করে জানতে পারে, সেই কোম্পানির কোনও সত্যায়ন দূতাবাস করেনি এবং তাদের কাছে সেই কোম্পানির কোনও তথ্যও নেই।

গত ১০ মার্চ রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকায় চিঠি দিয়ে জানায়, বাদল খন্দকারের মৃতদেহের বিষয়ে সার্বিয়ায় নিযুক্ত অনারারি কনসাল জেনারেল ডেভর ব্রেসিককে অবহিত করা হলে তিনি স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে তার মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও ফিউনারেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর ১৬ মার্চ অপর এক চিঠিতে জানানো হয়— অনারারি কনসাল জেনারেল মৃতদেহ বহনের জন্য স্থানীয়ভাবে খরচ হিসেবে ১ হাজার ৯৯৫ ইউরো এবং প্লেন ভাড়া ২ হাজার ১৮৪ ইউরো লাগবে বলে জানিয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। দূতাবাসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মৃতদেহ দেশে পাঠানো বাবদ খাত থেকে খরচের জন্য অনুমোদন দিয়ে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

বাদলের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছিল তার পরিবার।