পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিমকে খাওয়ানোর পর তাকে ধর্ষণ করে আসামি লতিফ। ঘটনা জানাজানির ভয়ে ভিকটিমের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ইটভাটায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে। নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে ভিকটিমকে উদ্ধারে সহায়তা, দাফন কাজে অংশ নেওয়া এবং ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।
২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কুড়িগ্রামে ইটভাটা থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব ঘটনা জানতে পারে র্যাব।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত মো. আব্দুল লতিফ শেখকে (৬০) গতকাল বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে র্যাবকে জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে কম্বল বিতরণের একটি অনুষ্ঠানে ভিকটিমের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে ভিকটিমের সঙ্গে লতিফ ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করে। থানা ইউনিয়ন পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময়ে দেখাও করে। ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর লতিফ কৌশলে ধুনটের মথুরাপুর এলাকায় একটি ইটভাটার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় ভিকটিমকে। আলাপচারিতার একপর্যায়ে পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিমকে খাওয়া সে। এরপর ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে ভেবে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিখোঁজ হয়। ২২ সেপ্টেম্বর ইটভাটা থেকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় বগুড়ার ধুনট থানায়।