উদ্ধার অস্ত্রটি জোড়া খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত কিনা জানা যাবে ফরেনসিকে

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরেক সদস্য আরফান উল্লাহ ইমাম খান ওরফে দামালকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগ। এসময় উদ্ধার করা হয় একটি অস্ত্র। হত্যাকাণ্ডের সময় এটিই ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা—নিশ্চিত হতে অস্ত্রটির ফরেনসিক করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাতে দক্ষিণ কমলাপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় দামালকে।

এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় গুলি ছোড়া মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল চালককে গোয়েন্দা পুলিশ শনাক্ত করতে পারলেও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।  মোটরসাইকেল চালকের নাম মোল্লা শামীম বলে জানতে পেরেছে গোয়েন্দারা।

এদিকে অস্ত্র আইনে করা মামলায় গ্র্রেফতার দামালকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার জন্য কমলাপুরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বৈঠক হয়। বৈঠকে কারা কারা ছিল—আকাশ ও দামালকে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। বৈঠকে ৬ জন থাকার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দারা। তাদেরকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।

একজন দায়িত্বশীল গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র রয়েছে কিনা—এ বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার আগে কমলাপুর এলাকায় একাধিকবার বৈঠক হয় পরিকল্পনাকারীদের। তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দারা কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। অচিরেই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ হতাশায় ভুগছিল। তার বন্ধু মোল্লা শামীম এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে প্রস্তাব দেয়। মাসুমের বিরুদ্ধে চলা চারটি মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার শর্তে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে তাকে রাজি করানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব ছিল বিকাশ-প্রকাশের কর্মী মুসা এবং ফ্রিডম মানিকের কর্মী দামাল ও মারুফ। মারুফের মাধ্যমেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শুটার হিসেবে মাসুমকে নিয়ে আসে মোল্লা শামীম। তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড—এ বিষয়ে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা রিফাত মোহাম্মদ শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে। তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে দামাল নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা—জানতে অস্ত্রটির ফরেনসিক করা হবে। হত্যাকাণ্ডে এই পিস্তলটি ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা—তখন নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে ।

মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২৪ মার্চ রাতে ঘটনার পর থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। ঢাকা শহরের ৫ জন শুটারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করি। এসব শুটাররা নিজেরা মোবাইল ব্যবহার করে না। সেজন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য নিয়ে আমরা তদন্ত কাজ এগিয়ে নেই। এক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শাহজাহানপুরের জোড়া খুনের ঘটনায় শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।