শিশুর জিম্মা চেয়ে প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে মামলা: ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

শিশুর জিম্মা চেয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ সময় পর্যন্ত শিশু সন্তানকে ৩ দিন মায়ের কাছে এবং ৪ দিন বাবার কাছে রাখতে বলা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 

আদালতে মায়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম। অন্যদিকে বাবার পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী।

পরে মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, ‘মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ বছরের কন্যা শিশুকে নিজের জিম্মায় চেয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে বউয়ের করা আবেদন আজ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে শিশুটি তিন দিন মায়ের কাছে আর চার দিন বাবার কাছে থাকবে—হাইকোর্টের এ আদেশ বহাল থাকলো। একইসঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।’

আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘আমাদের আবেদনটি আজকে ডিসমিস করে দিয়েছেন। এর ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলো। হাইকোর্ট যেহেতু ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে বেশ কয়েক মাস পার হয়ে গেছে। বাকি আর আড়াই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।’

এর আগে আবেদনকারী রাজধানী গুলশানের বাসিন্দা ইকবাল কামাল ও নাজমা সুলতানার মেয়ে এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষিকা তাসনুভা ইকবাল ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের ছেলে মুশফেক আলম সৈকতকে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় তাসুনভা আদালতের দ্বারস্থ হন। গত বছরের ৩ জানুয়ারি সৈকত তাসনুভাকে ডিভোর্স নেটিশ দেন। এ অবস্থায় বাবার কাছে থাকা মেয়েকে দেখতে চেয়ে নিম্ন আদালতে মামলা করেন তাসনুভা।

এদিকে পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানকে দেশের বাইরে না নিতে বাবা মুসফেক আলমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং মায়ের জিম্মায় চেয়ে গত বছরের ২০ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করেন শিশুটির মা তাসনুভা ইকবাল। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে রুলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। শিশুটি বাবার কাছে চার দিন এবং মায়ের কাছে তিন দিন থাকবে মর্মে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন মা। মায়ের সেই আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দিলেন।