‌‘ধর্ম ব্যবসায়ীরা নারীর পোশাক নিয়ে জনসম্মুখে আপত্তিকর আচরণ করছে’

টিপ পরার কারণে লতা সমাদ্দারকে পুলিশের পোশাক পরা একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তির হয়রানির ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। একই সঙ্গে সংগঠনটির পক্ষ হতে হয়রানিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি করা হয়।

মানববন্ধন থেকে নারী প্রগতি সংঘের সদস্যরা জানান, গত ২ এপ্রিল তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. লতা সমাদ্দারকে টিপ পরার কারণে পুলিশের পোশাক পরা একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তির হয়রানির ঘটনাটি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা বাংলাদেশের নারী সমাজের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হয়রানিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সচেতন এই নারী প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা লক্ষ করেছি, নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা বিঘ্নিত করতে ধর্ম ব্যবসায়ী ও সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গোষ্ঠী প্রায়ই নারীর পোশাক নিয়ে জনসম্মুখে আপত্তিকর আচরণ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সহিংস ও যৌন আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা মনে করি, উল্লিখিত হয়রানিকারী পুলিশ বাহিনীতে ওই গোষ্ঠীরই প্রতিনিধিত্ব করছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিএনপিএস’র সদস্যরা বলেন, ‌আর কোনও নাগরিক বা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধান লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নারী প্রগতি সংঘের সদস্যরা।