দেশ ও দশের স্বার্থে তামাকপণ্যে উচ্চহারে করারোপের আহ্বান

দেশ ও দশের স্বার্থে তামাকপণ্যে উচ্চহারে সুনির্দিষ্ট করারোপ করতে হবে বলে এক অনুষ্ঠানে দাবি জানানো হয়েছে। ‘বর্তমান তামাক ট্যাক্স— কার লাভ, কার ক্ষতি, কার বাড়ে দুর্গতি?' শিরোনামে তামাকবিরোধী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশ’ এর ফেইসবুক লাইভে এ দাবি জানানো হয়।

আলোচনায় অংশ নেন  সিরাজগজ্ঞ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, উবিনীগ-এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার ও একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত কে সিনহা।

লাইভটি সঞ্চালনা করেন স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশ-এর মুখপাত্র নাসির উদ্দীন শেখ। আলোচনায় উঠে আসে, কীভাবে বর্তমান তামাক ট্যাক্স ব্যবস্থায় লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি, বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশ এবং তামাকজনিত রোগের অবাধ বিস্তারে দুর্গতিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

বর্তমান তামাক ট্যাক্সের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নতুন কর কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে কী ধরনের সংস্কার জরুরি,  প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত’ করার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে আমরা এখন কোন অবস্থানে আছি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই কী, লাইভে এই বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেন আলোচকরা।

অনুষ্ঠানে ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘তামাকপণ্যের দাম বাড়লে মানুষ অন্যান্য নেশাদ্রব্যের দিকে ধাবিত হবে— এই ধারণা একদম অমূলক। তামাক ছাড়া কঠিন, তাই প্রয়োজন তামাকসেবীদেরকে এ নেশা থেকে বের করে আনা। আর সেটার জন্য বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত অন্যতম পন্থা উচ্চহারের ট্যাক্স নির্ধারণ। তামাকপণ্যে উচ্চহারে সুনির্দিষ্ট ট্যাক্স আরোপ হলে, তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।’

এবারের বাজেটে যেন গতানুগতিক সামান্য ট্যাক্স তামাকে আরোপ না হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করতে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন, সে বিষয়েও বলেন।

তামাক আইন সংস্কার প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘‘তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৯০%, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, খুচরা শলাকা সিগারেট বিক্রি বন্ধ, দোকানে দোকানে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ, পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ ও ‘নির্ধারিত ধূমপান এলাকা’ উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবসহ আরও কিছু প্রস্তাবনা সরকারের সামনে আমরা পেশ করেছি। এই সংশোধনগুলোর পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।”

নারীনেত্রী ফরিদা আখতার বলেন, ‘দেশে প্রতি চার জন নারীর একজন তামাকসেবী— এই ভয়াবহ তথ্যটির নেপথ্যে মূলত ধোঁয়াবিহীন তামাক। দৃষ্টির আড়ালে থেকে যাওয়া এই ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, সবধরনের ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যকে ট্যাক্সের আওয়তায় আনতে হবে এবং উচ্চহারে সুনির্দিষ্ট ট্যাক্স ধার্য করতে হবে।’

সাংবাদিক সুশান্ত কে সিনহা বলেন, ‘কোম্পানিগুলো মাত্র ৮০০ কোটি টাকা ট্যাক্স দেয়, আর ঢোল পেটায় ২৩ হাজার কোটি টাকার। বাকি টাকা ভোক্তা দেয়। অপরদিকে কোম্পানিগুলোর তামাকপণ্য উৎপাদনে সরকারি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং এখনও পুরো ডিজিটাল করা যায়নি। ফলে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থেকেই গেছে। সিগারেটের ৪টি মূল্যস্তরের মতো বর্তমান কর ব্যবস্থায় বহু ফাঁক ফোকড় আছে, যা তামাক কোম্পানিগুলোকে ট্যাক্স ফাঁকির সুযোগ করে দিচ্ছে, রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ।’

এ বছরের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে এই বিশেষ লাইভের আয়োজন করে স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশ।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস নামক একটি অলাভজনক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হয় এই তামাকবিরোধী আন্দোলন।