বেতন-বোনাস না পাওয়ায় গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা উত্তরায় এসে মালিকের বাসার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে বাড়িটিতে মালিককে পাননি তারা। পরে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন ও পুলিশের আশ্বাসে তারা মধ্যরাতে গাজীপুর চলে যান।
শনিবার (৩০ এপ্রিল) ইফতারের পর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসার সামনে অবস্থান করে বেতন-বোনাসের দাবিতে গাজীপুরের বাসন এলাকার ‘জিম অ্যান্ড জেসি’ গার্মেন্টেসের শ্রমিরা আন্দোলন শুরু করেন।
গার্মেন্টসটির মালিক মো. আনিছুজ্জামান ওই বাড়িতে থাকেন। তবে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচির সময় তাকে বাড়িতে দেখা যায়নি। তিন পালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
জাতীয় শ্রমিক জোটের গাজীপুর জেলার সভাপতি মাসুদ মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওই গার্মেন্টসের মালিক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। তাই আমরা গাজীপুর থেকে ইফতারের পর তার বাসার সামনে এসে অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে শিল্প পুলিশ, উত্তরা থানা পুলিশ, কলকারখানা অধিদফতরের কর্মকর্তা, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, কাল একটা সুরহা করবেন। এরপর আমরা রাত ১২টার সময় অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। কালকে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন সবাই।’
এদিকে আন্দোল চলাকালে রাত ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির শাহনাজ নামের একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা ছয় শতাধিক শ্রমিক একমাসের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাসের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। পাঁচশ’ শ্রমিক বাসন এলাকার ওই গার্মেন্টসের ভেতর আন্দোলন করছে। বাকি একশ’ শ্রমিক উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের মালিকের বাসার সামনে অবস্থান করে আন্দোলন করছি।’
আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে একজন ওই গার্মেন্টসটির অপারেটর রেবা আক্তার বলেন, ‘আমরা বেতনের জন্য গার্মেন্টস মালিকের বাসার সামনে ও কারখানায় আন্দোলন করছি। কিন্তু মালিক আমাদের বেতন ভাতা না দিয়ে পালিয়ে গেছেন। সবাই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আর আমরা বেতনের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করছি।’
অপরদিকে, সুইং অপারেটর মনোয়ারুল বলেন, ‘আমি এক মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস মিলিয়ে ১৮ হাজার টাকা পাই। আমার মতো সবাই নানা অঙ্কের টাকা পাবে।’
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকরা রাতে চলে গেছেন। মালিক পক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’