বেশভূষা বদলেও পার পায়নি ওরা

গত ১৮ এপ্রিল ইফতারের দোকান বসানো নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় নিউমার্কেটের ক্যাপিটাল ও ওয়েলকাম ফাস্টফুডের কর্মচারী বাপ্পি ও সজীব। পরে যখন দেখলো ঘটনা বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, তখন ঘাবড়ে যায় দুজনই। এসময় এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে আত্মগোপনে যায় তারা।

ঢাকায় কামরাঙ্গীরচরে পাশাপাশি বাসায় থাকতো বাপ্পি ও সজীব। ঘটনার দুদিন পর ঢাকা থেকে পালিয়ে একসঙ্গেই তারা চলে যায় কক্সবাজার। সেখানে বেশভূষা আমূল বদলে ফেলে দুজন। 

বুধবার ৪ মে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় মোয়াজ্জেম হোসেন সজীব (২৩) ও মেহেদী হাসান বাপ্পিকে (২১)।

নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্স। নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা হয় দুটি হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলা।

এরই মধ্যে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ২০ এপ্রিল তারা ঢাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যায়। তবে শুরুতে কক্সবাজার যাবে, নাকি নিঝুমদ্বীপ যাবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিল তারা।

এক সময় তাদের মনে হয় রমজান মাস চলছে। সামনে ঈদ। ঈদকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সরগরম হবে। তখন হোটেলগুলোতে চাকরির সুযোগও পাওয়া যাবে। এই ভেবে একসঙ্গে কক্সবাজার যায় তারা। সেখানে কয়েকটি হোটেলে নিজেদের সিভিও দেয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, পরিচয় আড়াল করতে তারা তাদের পোশাক ও চালচলনে পরিবর্তন আনে। লম্বা চুল ছোট করে। তারপর গণমাধ্যমে তাদের নাম-পরিচয় যখন প্রকাশ হচ্ছিল তখন তারা শঙ্কিত হয়ে পড়ে।

কক্সবাজার গিয়েও স্থির থাকতে পারেনি বাপ্পি ও সজীব। সেখান থেকে আরও কয়েক জায়গায় যায়। নিজেদের আরও বদলে ফেলার চেষ্টা করে।

তবে শেষে তারা আবার কক্সবাজারেই ফিরে আসে। গ্রেফতার এড়াতে মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখে তারা। এ সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা চেয়ে তা দিয়ে থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতো দুজন।

তবে এতকিছুর পরও গ্রেফতার এড়াতে পারেনি সজীব ও বাপ্পি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিরোইজম দেখাতে গিয়ে যখন দুজন দেখলো ঘটনা বড় হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তখন তারা ভয় পেয়ে যায়।

‘আমরা বিভিন্ন তথ্য এবং র‌্যাব-২ ও র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।’