‘শিশুদের জন্য আলাদা অধিদফতর ও অধিকার কমিশন গঠন জরুরি’

বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার রক্ষায় শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা এবং শিশু অধিকার কমিশন গঠন করার দাবি সুপারিশ করা হয়েছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন বাংলাদেশ -এর আলোচনা সভায়। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সিরডাপ মিলনায়তনে একটি জাতীয় পরামর্শ সভায় এই সুপারিশ উঠে আসে। 

সভায় জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ (ইউপিআর) ও শিশু অধিকার কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কতটুকু অগ্রগতি সাধন করেছে তা পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় কোয়ালিশন ও শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর সুপারিশ তুলে ধরেন বক্তারা।

সুপারিশে বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা এবং শিশু অধিকার কমিশন গঠন না করায় শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কিনা তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সভায় ইউপিআর সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করেন আসক কর্মী মাইমুনা সৈয়দ আহমেদ।

চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ মূলত শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন ১০টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ কোয়ালিশনের সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উপদেষ্টা (চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড জেন্ডার জাস্টিস) রাশেদা আকতারের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোয়ালিশনের সচিবালয় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে স্থায়িত্ব দিতে শিশুদের ওপর বিনিয়োগ করার কোনও বিকল্প নেই। শিশু প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে শিশুরা তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করা, প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা এখনও নারী ও শিশুকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে পারছি না। দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ দুটি জনগোষ্ঠীর জন্য একসাথে কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়, তাদের দেখভালের দায়িত্ব একই মন্ত্রণালয়ের। অথচ দেশের ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী শিশু এবং তাদের জন্য বিশেষ কাঠামো প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি তাদের অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি পৃথক শিশু অধিকার কমিশন গঠন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, শিশুবান্ধব আইন, বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার করতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা এবং পর্যাপ্ত অর্থ, জনবল বরাদ্দ আছে কিনা, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

সভায় বক্তারা শিশু আদালত, শিশু কল্যাণ বোর্ড, বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি ইত্যাদি বিদ্যমান ব্যবস্থার যথাযথ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মতামত দেন। সভায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিশু অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, শিশু প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।