তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কর বাড়ানোর দাবি

তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট করারোপ, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেছে তামাকবিরোধী ১৮টি সংগঠন।

রবিবার (২৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংহতি সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সংহতি সভায় বক্তারা বলেন, তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কর বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত পদ্ধতি। কিন্তু, কার্যকরভাবে করারোপের অভাবে বাংলাদেশে তামাকপণ্য অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য হয়ে যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে সিগারেটের ব্যবহার প্রায় একইরকম রয়েছে। সার্বিকভাবে বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

কর্মসূচি থেকে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতায় ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সরকারের তামাকবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে তামাকের ব্যবহার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনও ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করেন। আর ধূমপান না করেও প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন ও জনসমাগম হয়— এমন স্থানে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

সংহতিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম, এইড ফাউন্ডেশন, ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিস অব সোসাইটি, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুর‌্যাল পুওর (ডরপ), গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, মানস, ন্যাশনাল অ্যান্টি টিউবারকিউলোসিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নাটাব), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ সেল (টিসিআরসি), তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ), উন্নয়ন সমন্বয়, ভয়েস, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) ও প্রত্যাশা।