হাইকোর্টের রায়ের চার বছর পর আপিল আবেদন করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর উষ্মা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ।
রবিবার (২৯ মে) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ উষ্মা প্রকাশ করেন।
আদালতে সেলিম খানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার ২১টি মৌজায় অবস্থিত মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে রিট দায়ের করেছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। ওই রিটের ওপর ২০১৮ সালে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
রবিবার (২৯ মে) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানিতে ওঠে। শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রায় ঘোষণা হয়েছে ২০১৮ সালে। আর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এক হাজার ৪৪০ দিন পর। এতদিন কি ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন?’
এসময় বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ কখন ঘুমায়, আর কখন জেগে থাকে বোঝা মুশকিল।’
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান আদালতকে বলেন, ‘এই ঘুমিয়ে থাকারও একটা তদন্ত হওয়া দরকার।’
এরপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বিলম্ব মার্জনার আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করেন।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান বলেন, ‘মূলত নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে হলে আইনানুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেটাকে বালু মহাল ঘোষণা করতে হয়। বালু মহাল ঘোষণার পর সেখান থেকে কে বালু উত্তোলন করবেন, তা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কিন্তু এই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই হাইকোর্টে রিট করে বালু উত্তোলনের সুযোগ পান চেয়ারম্যান সেলিম খান। হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে লিভ টু আপিল করা হয়। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে জনস্বার্থের নামে ব্যক্তিস্বার্থে সেলিম খানের বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধই থাকবে।’
প্রসঙ্গত, মেঘনা নদীতে (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে অবস্থিত ২১টি মৌজা এলাকায়) জনস্বার্থে নিজ খরচে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করতে নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট দায়ের করেছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান। ওই রিটের ওপর ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে চাঁদপুরের ২১টি মৌজায় অবস্থিত মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা হয়।
পরে গত ৪ এপ্রিল চাঁদপুরে মেঘনার ডুবোচর থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হলে তার শুনানি নিয়ে রায় ঘোষণা করলেন আদালত।