পঁচাত্তরের ঘাতকদের কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি উচ্চারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।
শুক্রবার (৩ জুন) বিকালে ৪টায় রাজধানীর শহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গৌরব ৭১’ এ আয়োজন করে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব পেয়েছি। আজকে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতায় এ দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ সময়ে এসেও এ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। পঁচাত্তরে যারা হত্যাকারী ছিল, আজকে আবার তাদেরই কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে হুমকি। আমি এ ঘটনার ধিক্কার জানাই, তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।’
অধ্যাপক সামাদ বলেন, ‘এ দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্তহীন ত্যাগ রয়েছে। কাজেই এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব অপশক্তি মোকাবিলা করতে হবে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেডএম পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও প্রেতাত্মারা এখনও এ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছেন, এ দেশকে পঁচাত্তর বানাবেন; লাভ নেই। আপনাদের এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। সকল ষড়যন্ত্রের মূল উপড়ে ফেলা হবে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহানারা আরজু বলেন, ‘রক্তের ওপর যে দলের জন্ম হয়েছে, সে দল এখনও নানা ষড়যন্ত্র করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এ দেশের উন্নয়ন তাদের ভালো লাগে না। তাদের পরিকল্পনা শুধুই হত্যাকাণ্ড। নির্লজ্জ যারা, বিবেকহীন যারা তাদের বিবেকের কথা বলে লাভ নেই। তারপরও এ দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’
এ সময় গৌরব ’৭১ সংগঠনের সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, পাঁচবিবি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. হাবিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকারসহ অনেকে।