জুরাইনের সেই সংগঠক মিজানকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

রাজধানীর জুরাইন এলাকার নাগরিক অধিকার সংগঠনের সংগঠক এবং ওয়াসার এমডিকে ‘ময়লা পানির চা খাওয়ার আমন্ত্রণ’ জানিয়ে আলোচনায় আসা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সকালে জুরাইন এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিজানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সুধী সমাজের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মুক্তি চেয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

কলাম লেখক ফারুক ওয়াসিফ ও মাহা মির্জা তাদের ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, সকাল ১১টার দিকে জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজার সামনে থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় মাহতাব উদ্দিন নামে একজনকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন মিজানুর রহমান নিজেই।

মিজানুর রহমানের বন্ধু ও সমাজকর্মী মাহাতাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে মিজানুর প্রথমে ফোন দেয়। তখন সে পুলিশের গাড়িতে। ফোন দিয়ে জানায়, তাকে পুলিশ আটক করেছে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে ফোন রাখতে বলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, আমি কি আমার বন্ধুকেও জানাতে পারবো না? এরপর ফোনটি কেটে যায়। 

এ ঘটনার পর তিনি প্রথমে শ্যামপুর থানায় যান বলে জানান। তিনি দাবি করেন, ‘সেখানে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অবশ্য আমাদের থানায় থাকা অন্যান্য লোকজন জানিয়েছে তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে থানা থেকে বের করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে।’

গত ৭ জুন জুরাইন রেলগেট এলাকায় উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় এক দম্পতির সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি। পরবর্তী সময়ে সেখানে উপস্থিত নিম্ন আয়ের মানুষ, অটোচালক ও হকাররা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এক পরিদর্শক, এক সার্জেন্ট, দুই এসআই ও দুজন কনস্টেবল আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জুরাইন থানায় মামলা করে। মামলায় নামীয় আসামিরা হলেন- মোটরসাইকেল চালক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া সোহাগ-উল ইসলাম রনি, তার স্ত্রী ইয়াসিন জাহান নিশান ভুইয়া ও শ্যালক ইয়াসির আরাফাত ভুইয়া এবং আরও ৩ থেকে ৪শ’ অজ্ঞাত আসামি।

ওই ঘটনায় মিজানুর রহমান একাধিক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। ওই এলাকায় পুলিশের অনিয়ম নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার বাড়ি জুরাইন এলাকাতেই। পরিবার ও বন্ধুদের সন্দেহ, গণমাধ্যমে পুলিশের অনিয়মের কথা বলায় তাকে আটক করা হতে পারে। 

মিজানুর রহমানের স্ত্রী শামীম হাসেম খুকি বলেন, তিনি শ্যামপুর থানায় গেলে পুলিশ তাকে বলেছে ডিবি মিজানকে নিয়ে গেছে। পরে তারা মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে গেলেও মিজানকে আটকের বিষয়টি কেউ স্বীকার করেনি। 

শামীম হাসেম খুকির ধারণা, জুরাইনে পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনায় তার স্বামী পুলিশের সমালোচনা করে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে আটক করা হতে পারে। এছাড়া তার নামে অন্য কোনও মামলা বা গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট নেই বলেও জানান তিনি।

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিবি এই মামলা নিয়ে কাজ করছে। তারা আটক করতে পারে। আমরা মামলাটি ডিবিকে হস্তান্তর করে দিয়েছি।’

জানতে চাইলে পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ-কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম মিজান নামে কোনও ব্যক্তিকে তার আওতাধীন কোনও থানা পুলিশ আটক করেনি বলে জানান। পরে শ্যামপুর থানার ওসি মফিজুল ইসলাম জানান, থানা পুলিশ নয়, ডিবি পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ডিবি ওয়ারী বিভাগ মিজান নামে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেনি।

তবে ডিবির একটি সূত্র জানায়, মিজানকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গাড়িতে তুললেও পরবর্তী সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিবির এক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক জানিয়েছেন, মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হয়েছে। তাকে এই মামলা গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত না।