২০১২ সালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তরুণ ব্যবসায়ী মো. সুজনকে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের ফাঁসি রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আসামিরা হলো— চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট গ্রামের আবুল কালাম ও আজামপাড়া গ্রামের মো. তৌফিক। তবে আরেক আসামি একই গ্রামের মো. সবুজের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো.আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা, আহসান উল্লাহ ও পংকজ কুমার কুণ্ডু।
২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হন মুরাদনগর উপজেলার কালাডুমুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সুজন। যদিও তিনি মায়ের সঙ্গে চান্দিনা থাকতেন।
পরে মোটরসাইকেল কেনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তার বন্ধু আবুল কালাম, মো. তৌফিক ও মো. সবুজ ওই দিন রাতে তাকে নেশাজাতীয় কোমল পানীয় সেবন করিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চান্দিনা মহিলা কলেজের পেছনের একটি জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর তারা ছুরি দিয়ে গলা কেটে সুজনকে হত্যা করে মোটরসাইকেল কেনার টাকা নিয়ে যায়।
ঘটনার পাঁচ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর চান্দিনা মহিলা কলেজের পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে সুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই সুজনের মা জাহানারা বেগম আবুল কালাম, সবুজ ও তৌফিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পরে মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালের ১২ মে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক নুরুন নাহার বেগম সুজন হত্যায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করা হয়। সেসব আবেদনের শুনানি শেষে রায় দিলেন হাইকোর্ট।