আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যের ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)। প্রজ্ঞা মনে করে, এর ফলে স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে সরকার।
শনিবার (১৮ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এসব সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর সহায়তায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স- আত্মা আয়োজিত তামাক কর বিষয়ক বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, সিটিএফকে- বাংলাদেশ’র সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজর আতাউর রহমান এবং গ্রান্টস ম্যানেজার আব্দুস সালাম, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের ও প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞা জানিয়েছে, সম্পূরক শুল্কহার অপরিবর্তিত রাখায় এবং সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি চালু না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ অব্যাহত থাকবে। প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২.৫৬ শতাংশ। বর্তমানে সিগারেট বাজারের ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে যার প্রধান ভোক্তা মূলত তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী। মধ্যম, উচ্চ এবং অতি উচ্চ স্তরে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে ৩.১৭ শতাংশ, ৮.৮২ শতাংশ এবং ৫.১৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে (প্রভিশনাল) জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ (নমিনাল)। সিগারেটের দামবৃদ্ধি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় খুবই কম হওয়ায় সিগারেট আরও সহজলভ্য হবে এবং তরুণরা সিগারেট ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য থেকে চারটি মহানগরীর (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনা) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনিক গড় খুচরা মূল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২১ সালের (৮ জুন) তুলনায় ২০২২ সালে (৮ জুন) সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪৫.১৮ শতাংশ, আটার দাম ৪৪.৬৩ শতাংশ, ডিমের দাম ৩৪.০৩ শতাংশ, মসুর ডালের দাম ২৫.৪৩ শতাংশ, গুঁড়ো দুধের দাম ১৮.১৯ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬.৬৩ শতাংশ এবং মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে ১২.৫ শতাংশ। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট বাজারে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ২.৫৬ শতাংশ। জর্দা, গুল ও বিড়ির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য আরও সস্তা হবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ এসব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।