জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে আদি বুড়িগঙ্গার কালুনগর প্রান্ত (স্লুইস গেট) থেকে ইসলামবাগ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭০০ মিটার পলি ও আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস লালবাগ মডেল থানা সংলগ্ন এলাকায় এ কাজের উদ্বোধন করেন।
ডিএসসিসি তিনটি প্যাকেজে মোট ২ হাজার ৭০০ মিটার জায়গায় এ আবর্জনা অপসারণ করবে। এতে খরচ হবে ২১ কোটি ৫ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডিং লিমিটেড ও সোনার বাংলা নেভিগেশন জেভি।
প্রথম প্যাকেজে ১ হাজার ২০০ মিটার জায়গায় মোট পলি ও আবর্জনা অপসারণ করা হবে ২ হাজার ১১৭ দশমিক ৫০ ঘন মিটার এবং পলি অপসারণ হবে ৭২ হাজার ২১২ দশমিক ৯ টন। পলি অপসারণ করে মাতুয়াইল ভাগাড়ে ফেলা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৩ টাকা।
আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল ঘুরে দেখা গেছে, এ জলাশয়টি মূলত কঠিন বর্জ্য ফেলে পাহাড়ের মতো স্তুপ করে রাখা, যা পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এছাড়া, বেড়িবাঁধ এলাকায় বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বুড়িগঙ্গার জায়গা দখল করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানও আছে। এখানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দখলদারদের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও দেখা যায়।
দক্ষিণ সিটির এক কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে কামরাঙ্গীর চরে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গা নদীর আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার করার জন্য ডিএসসিসি মেয়রকে নির্দেশনা দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আদি চ্যানেলের অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়। একটি প্রকল্প প্রস্তুতের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হচ্ছে। আদি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিলোমিটার। বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দখল করা জায়গা খনন করে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার করা হবে।
এ প্রকল্পের পরিচালক দক্ষিণ সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খাইরুল বাকের বলেন, বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল অংশে যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও খনন করে ঢাকার দক্ষিণ অংশে সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে লালবাগ, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর হবে। ওইসব এলাকা থেকে নির্গত পানি ইটিপি ও সিইটিপি দ্বারা পরিশোধিত আকারে নদীতে নিষ্কাশিত করার ব্যবস্থা থাকবে। আদি চ্যানেলের উভয় পাশে নতুন রাস্তা, সাইকেল লেন, বৃক্ষরোপণ, দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। ঢাকাবাসীর জন্য একটি নতুন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হবে।’