চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

চাকরির ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার মিরপুর বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন–মো. আজিজুল হাসান এমরান (৫১), বিউটি আক্তার (৩৫), মো. কবির উদ্দিন পিয়াস (৩০)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা এবং ভুয়া চাকরির নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা গত ১৫ জুন আমেরিকার বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের অর্থায়নে ‘ফেয়ারফ্যাক্স বাংলাদেশ প্রকল্প’ নামে বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থায় ৬ হাজার ৪৭২টি পদের বিপরীতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, এটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ১৫ জুন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট (বিপিকেটি) নামের প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৯৪৪টি পদের বিপরীতে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন চাকরির পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাস্টটির একটি ভুয়া নিবন্ধন নম্বরও ব্যবহার করা হয়।

দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই প্রতিটি পদের জন্য ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা হারে পে অর্ডারের মাধ্যমে সোনালি ব্যাংক, বেগম রোকেয়া সরণি শাখা, মিরপুর, ঢাকার একটি হিসাব নম্বরে টাকা জমা করতে বলা হয়। দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়– বাড়ি নম্বর-১৪, রোড-৬, সেনপাড়া, মিরপুর-১০।

উল্লিখিত বাড়ির মালিক একজন আমেরিকা প্রবাসী। তিনি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অবগত হয়ে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, আমরা প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকাসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আমরা জানতে পারি, ওই চক্রের সদস্যরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কাজীপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। তারা কীভাবে ব্যাংকে অর্থ জমা করেছে এবং ব্যাংকে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে সে বিষয়ে তথ্যের জন্য ব্যাংকের কাছ থেকে স্টেটমেন্ট চাওয়া হবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।