নড়াইলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আসকের উদ্বেগ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি, দোকান ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে। শনিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়। 

শুক্রবার (১৫ জুলাই) দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় ১৮ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থীর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার সূত্রপাত। জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় গোবিন্দ সাহা ও দিলীপ সাহার বাড়ি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবার দোকানসহ ২-৩টি বাড়ি ভাঙচুর করে এবং গোবিন্দ সাহার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে একটি টিনের ঘর পুড়ে যায়।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সাহাপাড়া মন্দিরের চেয়ার ও সাউন্ড বক্স ভাঙচুর করে। শিক্ষার্থীকে না পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে বাড়ি থেকে পুলিশি হেফাজতে নেয়।

আসক এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে আসক বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। এসব ঘটনা অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া একই ধরনের অপরাধের দৃশ্যত কোনও বিচার দ্রুত না হওয়াতেই অপরাধীরা এ ধরনের অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত এ হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

ওই শিক্ষার্থী, তার পরিবার ও এলাকার অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে আসক।