সারা দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৫টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ ৯টি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক মঞ্চ’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দেশব্যাপী তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ২৯ ও ৩০ জুলাই রাজধানী ছাড়াও কয়েকটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ৩১ জুলাই রবিবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে এবং প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
‘শিক্ষা-সংস্কৃতি-মনুষ্যত্ব রক্ষায় রুখো সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস’ এই স্লোগান নিয়ে আয়োজিত সমাবেশের শুরুতে দু’টি দলীয় গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
এরপর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এতে বক্তব্য রাখেন— চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জাকির হোসেন, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের রঘু অভিজিৎ রায়, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের শফিকুল ইসলাম শহীদ, প্রগতি লেখক সংঘের সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের চেয়ারপারসন মাহফুজা খানম।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির মাধ্যমে অনেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। সবসময় রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থেকে এই সাম্প্রদায়িকতা আমরা আটকাতে পারবো না৷ এই সাম্প্রদায়িকতা যদি আটকাতে হয়, তাহলে আজকে যে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ শাহবাগে হচ্ছে সেটি দেশের সর্বত্র করতে হবে। সব সাংস্কৃতিক দলকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা আমাদের সামাজিক শক্তি দিয়ে এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যদি লড়াই না করি, তাহলে রাষ্ট্র আমাদের হাত থেকে ছিনতাই হয়ে যাবে।
আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। এতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য, আবৃত্তি, গণসংগীত পরিবেশন করেন। সবশেষে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী পথনাটক ‘‘অজ্ঞাতনামা’ পরিবেশন করে উদীচী কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগ। এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা সময়জুড়ে রং তুলিতে প্রতিবাদ শিরোনামে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণ করেন— চিত্রশিল্পী জাহিম মোস্তফা, রাশেদুল হুদা, কিরাটি রঞ্জন বিশ্বাস, সোহাগ বায়েজিদ, টাইগার নাজিদ ও সনাতন মালো।