থাইল্যান্ডে থাই ভাষায় অনূদিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
ঢাকায় পাওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টার ও বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংককের যৌথ আয়োজনে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ঢাকা, বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানান চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নারিন হিরানসুথিকুল এবং থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একটি অনন্য সাধারণ দলিল যা শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাসকে তুলে ধরেনি, গ্রন্থটি এমন একজন ব্যক্তি কর্তৃক রচিত যিনি নিজেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর দেশবাসীকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির থাই ভাষায় অনুবাদক দলের প্রধান চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টারের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক ড. জিরায়ুধ সিনথুফান সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ অনুবাদ শুধু একটি গ্রন্থের আক্ষরিক অনুবাদ নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর চিন্তা, দর্শন, অনুভূতি ও আবেগের অভূতপূর্ব বহিঃপ্রকাশ।
পরে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ইংরেজি অনুবাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম এবং চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুরথ হরা সাইকুলের অংশগ্রহণে তথ্যবহুল একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা গ্রন্থটিতে বর্ণিত বঙ্গবন্ধুর জীবন, দর্শন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে একজন মহান বিশ্বনেতা হিসেবে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। থাই ভাষায় অনূদিত গ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুকে নিবিড়ভাবে জানার ক্ষেত্রে থাই পাঠকদের সহযোগিতা করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক অন্যান্য অতিথিদের সাথে নিয়ে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন প্রদত্ত একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। তিনি এ আয়োজনকে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের উল্লেখযোগ্য অংশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শান্তির যে বার্তা বঙ্গবন্ধু প্রচার করে গেছেন সেটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল মন্ত্র- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। তিনি এ উদ্যোগের জন্য দূতাবাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর পুরো জীবন দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে না জানলে বাংলাদেশকে জানা সম্ভব নয়। এ গ্রন্থটি যুব সমাজের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং তার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতার জীবন সম্পর্কে জানার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন গ্রন্থভিত্তিক নয়, এ দর্শন তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উৎসারিত। তাই এ অনুবাদ থাইভাষী পাঠকদের বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে। তিনি দূতাবাস এবং চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
মো. আব্দুল হাই তার সমাপনী বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ, তাঁর জীবনদর্শন থাইভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটির অনুবাদ বিশেষ অবদান রাখবে। তিনি বইটি অনুবাদের লক্ষ্যে যাবতীয় অনুমোদন ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং বইটির অনুবাদ ও প্রকাশনায় চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় অন্যান্য দূতাবাসের কর্মকর্তা, চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, কাসেটসার্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রিত শিক্ষক- শিক্ষার্থী, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্রন্থটি বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) থেকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন গ্রন্থবিপণি ও অনলাইনে চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রয় করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: বাসস