খুন ও ডাকাতির মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আক্কাস মিয়াকে (৪২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারের র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, খুন ও ডাকাতি ছিল আক্কাসের পেশা। সে লেখাপড়া জানে না। টাকার বিনিময়ে সে তার দলে থাকা লোকজনদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মারামারিতে অংশ নিতো। এসব মারামারিতে অংশ নিয়ে হত্যা এবং ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে গ্রেফতার আক্কাস মিয়া। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আক্কাস মিয়া হবিগঞ্জ নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এলাকার ত্রাস ও পেশাদার খুনি।
আক্কাসের বিভিন্ন অভিযান বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৮ জুলাই সুনামগঞ্জের শাল্লা এলাকায় আক্কাস তার বাহিনীসহ ভাড়ায় মারামারি করতে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে শাল্লা থানায় এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সুনামগঞ্জের বিদায় এলাকায় ভাড়ায় মারামারি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়। সুনামগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় মামলা করা হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ডাকাতি করতে গিয়ে বাধা দেওয়ায় একজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ মামলায় ২০১৯ সালে আক্কাসের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা ও ২০ হাজার টাকা দণ্ডাদেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া তার নিজস্ব বাহিনীতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জনের সদস্য হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়িতে ডাকাতি করেছে। অধিকাংশ ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরাও আইনের আশ্রয় নেয়নি।
গত ১০ বছরে তার নামে ১২টি মামলা হয়েছে জানিয়ে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত খুন, ডাকাতি, চুরি, মারামারি, লুটপাট, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ ১২টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব মামলায় একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হয়েও সে জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। শুরুতে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিত কিন্তু শাল্লায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার পর থেকে সে পলাতক।
২০১৬ সালের পর থেকে সুনামগঞ্জ থেকে পালিয়ে রাজধানীতে এসে ছদ্মবেশে বসবাস শুরু করে। প্রথমে রিকশাচালক, পরে বাসের সহকারী এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করতো আক্কাস।