আট দিনেও মায়ের কোল পায়নি শিশুটি


বেইলি রোডে উদ্ধার হওয়া নবজাতকআট দিনেও মায়ের কোল পায়নি বেইলি রোডের প্রপার্টিজ ম্যানশনের ছয়তলার কার্নিশ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে মা বিউটি আক্তার ও নবজাতক ইউনিটের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির চিকিৎসায় তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে মায়ের কাছে দিতে চাইলেও মা বিউটি বেগম নিতে রাজি নন বলে জানায় সূত্রগুলো।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে রমনার বেইলি রোডের ২৬ নম্বর প্রপার্টিজ ম্যানশনের ছয়তলার বি-৫ ফ্ল্যাটের কার্নিশ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা প্রকৌশলী আজমল হক ও ফিরোজা হক দম্পতির বাসায় কাজ করেন বিউটি বেগম (১৭)। ভগ্নিপতির ধর্ষণের ফলে শিশুটির জন্ম দেন বিউটি। জন্মের পরপরই শিশুটিকে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেন তিনি।
কান্নার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে নবজাতক ও তার মা বিউটি বেগমকে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। তখন থেকে তারা দু’জনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আলাদাভাবে চিকিৎসাধীন।

রমনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নবজাতকটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নবজাতকের মা বিউটি বেগমকেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাচ্চাটি জন্ম দেওয়ার পরপরই ছয় তলার জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেন মা। নবজাতকটি দ্বিতীয় তলার কার্নিশে পড়ে।

বিউটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই আমিনুল আরও জানান, যে বাসায় বিউটি কাজ করতেন, সেই বাসার মালিক প্রকৌশলী আজমল হক অসুস্থ। ১০ মাস আগে কুমিল্লায় বড় বোন লিপি আক্তারের বাসায় বেড়াতে যান বিউটি। সেখানে তার বোনের স্বামী নীরব ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের বাসায় তিনি নিজেই ছেলে নবজাতকের জন্ম দেন। জন্মের পর জানাজানির ভয়ে তিনি নবজাতকটিকে ছয়তলার ওপর থেকে নিচে ফেলে দেন।

বাসার গৃহকর্ত্রী ফিরোজা হক জানান, বিউটি আক্তারের বাবার নাম আবু বকর প্রামাণিক। তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লা পাড়ার নওকর গ্রামে। বিউটি দশ বছর ধরে আমাদের বাসায় কাজ করেন। মাঝখানে মোবাইলে বেশি কথা বলায় তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত রোজার ঈদের আগে তিনি আবার কাজ করবেন বলে বাসায় আসেন। এরপর থেকে কাজ করছিলেন। তার  পেটে যে বাচ্চা আছে, সেটা বুঝতেই পারিনি আমি। বাসার অন্য কাজের মেয়ে আয়েশা কেবল বলেছিলেন বিউটি অসুস্থ।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিশুটি পায়ে ও মাথায় ব্যথা পেয়েছে। তবে সেটা গুরুতর নয়। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। চাইলেই মায়ের দুধ খাওয়াতে পারে শিশুটিকে। কেন খাওয়ানো হচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শিশুটিকে মায়ের কোলে দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির কো-অর্ডিনেটর বিলকিস বেগম কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে,  তিনি বলেন, বাচ্চাটির মা বিউটি বেগম ভালো আছেন।

/এমএনএইচ/