ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়ে পৌরসভার গতি হ্রাস করা হচ্ছে, অভিযোগ মেয়রদের

বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে দেশের পৌরসভাগুলোর গতি সঞ্চারের পরিবর্তে হ্রাস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ররা। তারা বলছেন, একসময় পৌরসভায় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করার প্রস্তাব উঠেছিল। কিন্তু এতে পৌরসভার বৈশিষ্ট্য নষ্ট হবে—তা প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি তা করতে দেননি। এখন আবার নতুন করে ডিসিদের তদারকি দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের বোধগম্য নয়।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘৮ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা স্থানীয়করণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নে পৌরসভাসমূহের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন পৌর মেয়ররা। বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতি- ম্যাবের সভাপতি ও নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী, ইউএনডিপির আন্তর্জাতিক কারিগরি উপদেষ্টা যুগেশ প্রধান, ম্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গণি, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আনিছুর রহমান প্রমুখ।

মেয়ররা অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভায় সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরাও চাই, কারণ সিইও থাকলে কাজে গতি আসে। কিন্তু সিইও না দিয়ে অনেক পৌরসভায় ভারপ্রাপ্ত সিইও দেওয়া হচ্ছে। যারা নতুন এসিল্যান্ড হয়েছেন তাদের এ পদে পদায়ন করা হচ্ছে। তাই সিইও পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে ৮ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পৌরসভাসমূহের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে জরিপ রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সর্দার শফিকুল আলম। জরিপে নগর দরিদ্র, জনস্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, আবাসন, নাগরিক অবকাঠামো, মহামারি পরিস্থিতি ও নগর শাসন নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ‘টেকসই স্বাস্থ্যসেবা’ এসডিজি লক্ষ্য-৩ (সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা) এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও বস্তিবাসী অপর্যাপ্ত ও অযোগ্য চিকিৎসাসেবার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন তাদের প্রতিনিধি ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, আমরা যারা বস্তিবাসী তারা ঢাকার ভোটার না। ভোটার না থাকার করণে সরকারের দরিদ্র জনগোষ্ঠী হিসাবে যেসব সাহায্য সহযোগিতা আসে, তা আমরা পাই না। আবার গ্রামেও সহযোগিতার তালিকায় আমাদের নাম থাকে না। তাই এ সমস্যা সমাধানে বস্তিবাসীরা যে এলাকায় থাকে সেই এলাকার ভোটার করার দাবিও জানান তিনি।

বিষয়টি স্বীকার করে একজন পৌর মেয়র বলেন, আমরা যে সামান্য সহযোগিতার বাজেট পাই তা দিয়ে সামনে যারা থাকেন তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করি। বাজেট সংকুলান না হওয়ায় তালিকা করার সময় যারা বাইরে থাকেন তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।