মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ম্যাচের আবহে অনুশীলন। টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরাম ক্রিকেটারদের অনুশীলন পরখ করেছেন। মূলত তিনদিনের এই ক্যাম্প থেকেই বিশ্বকাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দল বেছে নেওয়া হবে। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে তৃপ্তির কথা জানিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।
সোমবার সকাল সকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম ক্রিকেটারদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। জাতীয় দলের পাশাপাশি এইচপির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে ডাকা হয় ক্যাম্পে। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুশীলন হয়। এশিয়া কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেছিলেন। আজও তাদেরকে একসঙ্গে ব্যাটিংয়ে দেখা গেছে। ব্যাটিং করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার। যেখানে শান্ত দুইবার আউট হয়েছেন চারবার ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেয়ে। শুধু শান্ত নন ব্যাটিংয়ে একাধিক সুযোগ পেয়েছেন অন্যরাও। মিরাজ দুইবারের দুইবারই আউট হয়েছেন। আফিফ একবার। সৌম্য তিনবার সুযোগ পেয়ে তিনবারই আউট। লিটন তিনবার ব্যাটিং পেয়ে একবারও আউট হননি। আর মধ্যভাগে মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহ টানা ব্যাটিং করেছেন।
প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘আজকের অনুশীলন ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথম ৬ ওভারে আমরা কী চাই, ব্যাটাররা কীভাবে ব্যাটিং করবে, বোলাররা কীভাবে বোলিং করবে। ৬ ওভার শেষ হতে ৩০ মিনিটের মতো লাগে, আমাদের লেগেছে ৪৫ মিনিটের মতো। প্রত্যেকটা বোলারের সঙ্গে কোচ কথা বলছেন, কী করতে চাচ্ছে, সেটা এক্সজিকিউট করতে পারছে কি না। ওইগুলোর একটা ম্যাচের আবহে অনুশীলন। একইসঙ্গে ডেপথ ওভারে আমরা কী চাই, স্লোয়ার, ইয়র্কার, সেটা কখন কীভাবে করব, ফিল্ড প্লেসিং কী হবে, ব্যাটসম্যান কারা।’
সুজন আরও বলেছেন, ‘আজকে যেমন টার্গেট ছিল প্রথম ৬ ওভারে ৫০ রান, ২ উইকেট আমরা হারাতে পারব। আর বোলারদের জন্য ছিল ৬ ওভারে ৪৫ রানের নিচে রাখতে হবে। এসবের জন্যই মূলত এই অনুশীলন। বেশি অনুশীলন করলে ছেলেদের মধ্যে চিন্তার শক্তিটা হয়তো বাড়বে। পাওয়ার হিটিংয়ের ব্যাপারটা তো এরমধ্যে থাকছেই। সিনারিও যদি এরকম আসে যে, কোনও ওভারে যদি ১৪-১৫ রান করে দরকার হয়, সেক্ষেত্রে নতুন একটা ব্যাটসম্যানের নেমে যাতে সামর্থ্য থাকে ছয় মারার। এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমার মনে হয় আমরা এরকম নির্দিষ্ট করে কাজ খুব কম করেছি। টি-টোয়েন্টি মাথায় রেখে আমরা এই কাজগুলো করছি।’
ওপেনার সংকটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমানকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়। এই জুটি মোটামুটি সফল হওয়াতে বিসিবি এই দুইজনকে নিয়েই ওপেনিং সমস্যা কাটাতে চাইছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা লিটনকে মিডল অর্ডারে ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও এ ব্যাপারে কিছু জানাতে পারলেন না সুজন। কেবল বলেছেন চার নম্বর পর্যন্ত পজিশন সহসাই চূড়ান্ত হয়ে যাবে, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, ১,২,৩, ৪ হয়তোবা ফিক্সড হয়ে যাবে। তারপর আমরা সিচুয়েশন বুঝে রোটেইট করতেও পারি। সবাইকে নির্দিষ্ট করে রোল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। যদি আমরা লিটনকে চারেই খেলাই, তাহলে তার রোলও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ওপেন করলে সেটা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে টপ অর্ডারে আমরা খুব বেশি শাফল করব না।’
এদিকে মুশফিকুর রহিমের অবসরের সিদ্ধান্তের পর মাহমুদউল্লাহর অবসর নিয়েও গুঞ্জন উঠে, বিশ্বকাপের দলে কী মাহমুদউল্লাহ থাকছেন? খালেদ মাহমুদ সুজন জানিয়েছেন— এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, ‘রিয়াদ যেহেতু ক্যাম্পে আছে, এত বছর ধরে খেলছে, হোয়াইট বলে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন দল হবে, তখন ডিসিশন হবে। রিয়াদ থাকবে কী থাকবে না, দলে ওর প্রয়োজন আছে কী নেই সেটা আমরা চিন্তা করব। তবে আমি মনে করি রিয়াদ আমাদের জন্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ। মূল সিলেকশনে বসলে তাকে নিয়ে তর্ক হবে। আমি চাই তর্ক হোক, রিয়াদের জায়গায় যদি কেউ থাকে তাকে আমরা কেন সুযোগ দিচ্ছি, এসব কথা উঠুক।’
এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর বিশ্বকাপে ভালো করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে সাকিব আল হাসানের দল। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ছাড়া ত্রিদেশীয় সিরিজে তৃতীয় দল পাকিস্তান। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ডে উড়াল দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়েই বাংলাদেশ নিউ জিল্যান্ড যাবে। ১৫ তারিখের মধ্যেই ত্রিদেশীয় দল ঘোষণা করার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে।