‘তোয়াব খান নেতাগিরি করতেন না, নিরবেই দায়িত্ব পালন করেছেন’

একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব তোয়াব খানকে জাতীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৈরী আবহাওয়ায় আপাদমস্তক এই সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই স্মৃতির পাতায় ডুব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবদুল গাফফার চৌধুরীর পর বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে তোয়াব খান সম্ভবত সবার সিনিয়র ছিলেন। তিনিও অবশেষে চলে গেলেন। তার মৃত্যুতে আমাদের সংবাদপত্র জগতে এক বটবৃক্ষের বিশাল পতন হলো। এ শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

শনিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে মারা যান জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তোয়াব খান। তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া খানের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পরেই তার দাফনের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

আজ সোমবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়। এসময় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রথমে ঢাকা জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সহকারী সামরিক সচিব সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে তার সামরিক সচিব জিএম রাজীব আহমেদ।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি দল বর্ষীয়ান এই সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (তোয়াব খান) হাঁকডাক করতেন না, নেতাগিরি করতেন না। একেবারে নিরবেই তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাংবাদিকতায় নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। একাত্তরের শব্দ সৈনিক, বায়ান্নর ভাষা সৈনিক এবং বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অনেক পছন্দ করতেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

এসময় তোয়াব খানের ভাই আবেদ খান বলেন, ‘আমরা কামনা করি, ভবিষ্যতে তোয়াব খানকে শুধু একটি দিনে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে নয়, তার কর্মের ভেতর দিয়ে তাকে আবিষ্কার করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে এবং বরণ করতে হবে, ধারণ করতে হবে। আজকে বাংলাদেশ একটি দিকে তাকিয়ে আছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। একটি বিষয় সবাইকে মনে রাখতে হবে, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যারা আসছে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার সময় এখনই।’ছবি: নাসিরুল ইসলাম

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১২টা ৫ মিনিটে প্রেস ক্লাবের উদ্দেশে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।