‘প্রবাসীদের মনের স্বাস্থ্যে নজর দিন’

‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। যদি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক ডলার ব্যয় করা হয়, তাহলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে পাঁচ ডলার ফেরত আসবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির জন্য হলেও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে।’

সোমবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারের কনফারেন্স রুমে প্রবাসী কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘‘আমরা যদি প্রতিদিন না পারি সপ্তাহে একদিন হলেও যেন মানুষকে বলতে পারি যে, ‘আপনার মনের স্বাস্থ্যে নজর দিন’। এটা একটা বিষয় যেখানে নজর দেওয়া প্রয়োজন। নীতি নির্ধারকরা সাধারণত এসব বিবেচনা করেন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে, নতুবা তারা প্রয়োজন মনে করেন না। এজন্য হেল্থ প্রফেশনালরা হিসাব করে দেখিয়েছেন যে, শুধুমাত্র ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার ও এনজাইটি ডিসঅর্ডারের জন্য প্রতিবছর এক ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।’’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিটের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলে এত পরিমাণ রোগী আসছে যে, আমরা সময় দিতে পারছি না। আমাদের এনপিইউতে একটি রোগীর অ্যাপয়েনমেন্ট পেতে এক মাস লেগে যায়। আমাদের লোকও কম। ডিপ্রেশন বাংলাদেশে খুব কমন একটা রোগ, তার প্রতিফলন আমরা বেশ কিছু গবেষণায় দেখেছি। গড়ে মাসে ৪৫ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছেন। তার মধ্যে স্কুলগামী শিক্ষার্থী বেশি। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ তরুণ নাগরিকরা ভালো নেই, তারা মানসিকভাবে ভালো নেই। তারা আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। এটা খুবই আশঙ্কাজনক। আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আছেন। তাদের সাহায্য দরকার।’

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘সামাজিকভাবে আমরা মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেই না, তাতে একটা ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। প্রতি বছর গড়ে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। যদি বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সেবা লাগে, তাহলে প্রথমেই প্রয়োজন প্রবাসী কর্মীর। কারণ, আমরা পরিবারের কাউকে না কাউকে বলতে পারলেও এই মানুষগুলোর বলার কেউ থাকে না। এই যে এক কোটি মানুষ দেশের বাইরে থাকেন, সারা দিন কাজ করে যখন ঘুমাতে যান, তখন তার মনে হয় তিনি একা। এই যে একা ঘুমানোর চাপ তাতে গত ১৪ বছরে ৪০ হাজার মানুষ প্রবাসে মারা গেছেন। সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ব্রেইন স্ট্রোকে। সেই মানুষটা একা, নিঃস্ব এই জিনিসটা ঘুমের মধ্যে তার স্ট্রোকের কারণ কিনা আমরা জানি না।’

সভায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপপরিচালক (কল্যাণ) শরিফুল ইসলাম, সৌদি ফেরত কর্মী তানিয়া আক্তার, গ্রিস ফেরত কর্মী লিটনসহ ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মকর্তা ও মনোসামাজিক কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।