হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর সহায়তায় চলাচল করছিল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ট্রাফিক পুলিশ এই অটোরিকশার রাস্তায় নামা বন্ধ করে দেওয়ায় চিহ্নিত মহলের ব্যবসায় ভাটা পড়ে। যদিও অভিযোগ রয়েছে—পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই এ ধরনের নিষিদ্ধ যানবাহন রাস্তায় নামানোর সুযোগ পেয়ে থাকে চালক ও নেপথ্যের ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ পুলিশের কঠোরতার কারণে রাস্তায় রিকশা নামাতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয় চালকরা। এই সুযোগে তাদের ইন্ধন দেয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের ইন্ধনে শুক্রবার মিরপুরে একাধিক পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, পুলিশের বাধা পেয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কৌশল অবলম্বন করে এই ব্যবসার চিহ্নিত সিন্ডিকেট। তারা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী-পঙ্গু ব্যক্তিদের নিয়োগ করে। টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের সংগ্রহ করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে পড়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর পল্লবী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্টরা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করে এবং ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেন। পরে এরই জের ধরে রিকশাচালকরা সংগঠিত হয়ে সাগুফতা পুলিশ বক্স, মিরপুর ১২ নম্বর পুলিশ বক্স, কালশি পুলিশ বক্স, অরিজিনাল-১০ নম্বর পুলিশ বক্স, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দায়িত্বরত একজন পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে আহত করে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে এক থেকে দেড়শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লবী থানার পরিদর্শক তদন্ত আহাদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ সদস্য এবং পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা। হঠাৎ একাধিক পুলিশ বক্সে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা পুলিশকে বিচলিত করেছে। এর পেছনে অবশ্যই উসকানিদাতা রয়েছে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ পেতো না।’ তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসা করা হলে হামলার নেপথ্যকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই ব্যবসার নেপথ্য ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। ভেতরে ভেতরে তারা সংগঠিত হচ্ছিল এবং তারাই ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের পুলিশ বক্সে হামলার উসকানি দেয়। জানা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের কেউ চার্জিং স্টেশন দিয়েছে, কেউ বা রিকশার ব্যবসা করে, আবার কেউ কারখানা খুলে বসেছে। নানা ধরনের লোক এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ আছে, পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে এসব ব্যবসা চলে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ পুলিশ রিকশাগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় চিহ্নিত মহলের আয়ে ভাটা পড়ে। পুলিশ বক্সে হামলার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।