ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী’র তামাকমুক্ত বাংলাদেশ ঘোষণার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও ‘রোডম্যাপ’ হয়নি। উপরন্তু, তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার ও সরকারের প্রতিনিধি রয়েছে যা দেশকে তামাকমুক্ত করতে বড় প্রতিবন্ধকতা। নীতি-নির্ধারনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে। তামাকের পেছনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সোনারগাঁও হোটেলের চিত্রা হলে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। দি ইউনিয়নের সহায়তায় মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এই সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক টুকু। মানস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি’র সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান এবং জাতীয় সংসদের ছয় জন সদস্য। সাবের হোসেন চৌধুরী ছাড়া আরও ছিলেন ড. বীরেন শিকদার, শিরীন আক্তার, সিমিন হোসেন রিমি ও বাসন্তী চাকমা এমপি। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানস এর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস ওয়াহিদ এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পাবলিক প্লেসে ধূমপানের স্থান বিলুপ্ত, ই-সিগারেট নিষিদ্ধ, খুচরা শলাকা সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন আলোচক ও অতিথিরা।বিদ্যমান খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী যৌক্তিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বলেও অভিমত দেন সংসদ সদস্য ও জনস্বাস্থ্যবিদরা।
দি ইউনিয়নের কারিগরী পরামর্শক অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, আইন ও নীতি বিষয়ে বিভ্রান্তি ও প্রচারণা তামাক কোম্পানির পুরনো পদ্ধতি। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটির খসড়া সংশোধনী পাস বাধাগ্রস্ত করতেও কলকাঠি নাড়ছে তামাক কোম্পানিগুলো। আইন ভেঙে কিশোর-তরুণ ও নারীদেরও উদ্বুদ্ধ করছে। তামাক চাষ কোম্পানির জন্য লাভজনক, কৃষকের জন্য নয়। এজন্য খসড়া তামাক চাষ নীতি পাস করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে অ্যাড. শামসুল হক টুকু বলেন, ধূমপান ও মাদকে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। জাতি কর্মক্ষম জনশক্তি শূন্য হতে চলেছে। বিড়ি-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। একইসঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক অনুশাসন অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি যুপগোযোগী করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কাজ চলছে। আগামী প্রজন্মের স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।
প্রফেসর ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, করোনা’র চাইতে তামাকের মৃত্যু হার ১৬ গুণ বেশি। করোনায় যত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তামাক নিয়ন্ত্রণে সেরকম উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তামাক ও মাদকের মতো ক্ষতিকর নেশার কুফলগুলো বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।
শিরীন আখতার এমপি বলেন, তরুণদের তামাকে আসক্ত করতে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে। ই-সিগারেটে ঝুঁকছে তরুণরা, এটি নিষিদ্ধ করতে হবে। জাতীয় সংসদকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত করতে ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মানস এর প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর হেড অব প্রোগ্রামস মো. শফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।