রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে দেশব্যাপী টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় বিপুল পরিমাণ ট্রেনের টিকেট জব্দ করে র্যাব-৩। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক অভিযানে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় এই অভিযান চালায় র্যাব।
অভিযানে কালোবাজারি চক্রের মূলহোতা সেলিম (৪৮), শাহ আলম (৩৪), লিটন (৩৫), রশিদ ফকির (৩০), খোকন মিয়াকে (৫৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে ট্রেনের ৮৮টি টিকিট, মোবাইল ফোন ৪টি এবং নগদ ১৮ হাজার ৪৪৭ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর টিকাটুলিতে র্যাব-৩ এর প্রধান কার্যালয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সেলিম ও বাকি চার জন টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে একটি এনআইডি দিয়ে ৪টি করে টিকিট সংগ্রহ করতো। এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মুঠোফোন নাম্বার ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতো তারা। এরপর সেলিমের নেতৃত্বে ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে থেকে তারা বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির করতো। তারা দিগুণ মূল্যে টিকিট বিক্রি করে আসছিল।
এই চক্রটি মূলত তিস্তা এক্সপ্রেস, এগারো সিন্দুর, মহানগর প্রভাতী, চট্টলা এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এবং পারাবত এক্সপ্রেস—এসব ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে থাকে। এই চক্রটির আরও সদস্য রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ৫-৭ জন করে সক্রিয় সদস্য রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেলিমের নামে টিকিট কালোবাজারির দায়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সে আগেও জেল খেটেছে। অপর আসামি শাহ আলমের নামে টিকিট কালোবাজারির ৩টি মামলা রয়েছে। গত ঈদুল আযহার আগে সে গ্রেফতার হয়ে ৩৫ দিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর আবারও কালোবাজারিতে লিপ্ত হয়। গ্রেফতারকৃত রশিদের বিরুদ্ধে একটি, খোকনের নামে ৪টি এবং লিটনের নামেও ৪টি করে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তারা প্রত্যেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।