‘ঘুষ-দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আইনজীবীকে বহিষ্কারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

মানিকগঞ্জে ‘ঘুষ-দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ও সহযোগীদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করায়  আইনজীবী মাহাবুবুল ইসলামকে বহিষ্কারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ রিটটি দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘রিট আবেদনটির ওপর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে।’

রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, দুদকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে মানিকগঞ্জের আদালতে ‘ঘুষ-দুর্নীতি’র অভিযোগের বিষয় তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই আইনজীবীর বিষয়ে বার সমিতিকে মানিকগঞ্জের জেলা জজের দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ‘ঘুষ-দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ও সহযোগীদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করায় মাহাবুবুল ইসলাম নামে মানিকগঞ্জ বারের এক আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য আইন পেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। 

একইদিন বিকালে নোটিশ পাওয়ার পর পরই বিকালে আদালত চত্বরের সামনে শহীদ রফিক সড়কে আইনজীবী মাহাবুবুর ইসলাম গলায় ‘ঘুষের চেয়ে ভিক্ষা উত্তম, করলাম প্রতিবাদ, হইলাম বহিষ্কার’ লেখা সংবলিত প্লেকার্ড গলায়  ঝুলিয়ে এর প্রতিবাদ করেন।

জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর জেলার আদালত প্রাঙ্গণে মাহাবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জ বারের কয়েকজন আইনজীবী বিচার বিভাগে বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি আর ন্যায়বিচার একসঙ্গে চলে না, স্লোগান সংবলিত লিফলেট বিতরণ ও সহযোগিদের নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে তারা দাবি করেন— এফিডেভিট করতে নির্দিষ্ট ফি থেকে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এক হাজার টাকার কমে কোনও নকল সরবরাহ করা হচ্ছে না। রেকর্ড রুম থেকে নথি পেতে হলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। জেলার বিচার বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বিচার প্রার্থীদের মামলা খরচ অনেক বেড়ে যায়। এই কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মাহাবুবুল রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সমিতির সভাপতি জামিলুর রশিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক নূরতাজ আলম ওরফে বাহার। লিখিত ওই নোটিশ ১৫ কার্যদিবসের জন্য তাকে আইন পেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।