ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: দুর্গম এলাকার মানুষকে সরিয়ে আনবে সেনাবাহিনী

ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’-এর কারণে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে সম্পৃক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৭ হাজার ৩০টির মতো শেল্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে লোক নেওয়ার কাজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে এটা আরও জোরদার করা হয়েছে। আমরা আশা করি, মাঠ প্রশাসন, ভলান্টিয়াররা যেভাবে কাজ করছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শতভাগ মানুষকে আমরা সরিয়ে আনতে পারবো।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে মিটিংয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে—তারা যেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে সম্পৃক্ত করে দুর্গম এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে। তারা এতে সম্মতি দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়াররা সিপিপি ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে কাজ করছেন।’

এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের মতো ধ্বংসাত্মক হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিডর ছিল সুপার সাইক্লোন। সিবিআর সাইক্লোনের পরে আরেকটা আছে, সেটা হচ্ছে ভেরি সিবিআর সাইক্লোন। তারপরে সুপার সাইক্লোন। বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হলে এটাকে সিবিআর সাইক্লোন বলা হয়। এটা (সিত্রাং) ভেরি সিবিআর অথবা সুপার সাইক্লোন হওয়ার আপাতত আমাদের কোনও প্রেডিকশন নেই।’

১৫টি জেলায় ২৫ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আম্পানে আমরা ২৪ লাখ ৭৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দিতে পেরেছিলাম। এখানে আমরা ২৫ লাখের মতো টার্গেটে রেখেছি ১৫ জেলায়।’

কখন চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা চূড়ান্ত আঘাত বলতে কেন্দ্র বা সেন্টারকে ‘আই’ বলি। আইয়ের আঘাতকে আমরা চূড়ান্ত বলি। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটা মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে আঘাত আনবে।’

দুর্যোগে সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় ৫ লাখ টাকা করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি, যদি রান্না করা খাবার প্রয়োজন হয়। এছাড়া আমরা ড্রাই কেক এবং ড্রাই বিস্কুট পাঠিয়েছি। চাল, তেল, লবণ, চিনি এবং গুঁড়া মসলা পাঠিয়েছি, যাতে রান্না করে খাবার খাওয়াতে পারে।’

‘চিত্রাং’-এর ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এটা ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত পর্যন্ত যেতে পারে।’ এ ঘূর্ণিঝড়ে মানুষ এবং গবাদিপশুর কোনও ক্ষতি না হলেও মৎস্য এবং কৃষি সম্পদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকারেরর প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে প্রস্তুতি মানুষ এবং গবাদিপশুর কোনও ক্ষতি আসলেই হবে না। তবে মৎস্য সম্পদ এবং কৃষি সম্পদে আমরা কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনোভাবেই ক্ষতিটা মোকাবিলা করা যায় না। ’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফোনে আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন—ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সবচেয়ে বড় সফলতা হলো শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে এনে তাদের জীবন রক্ষা করা। একটি লোকও যদি মৃত্যুবরণ না করে, তাহলে সেখানে সেটাই হলো সবচেয়ে বড় সফলতা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গবাদিপশুগুলোকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য। এখন সব আশ্রয়কেন্দ্রে গবাদিপশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থা আছে। লোকজন যারা আসছেন, তারা তাদের গবাদিপশুসহ আসছেন। আরও একটি নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, ‘আমরা যেন লোকজনকে উপদেশ দেই—তাদের ঘরে যে খাদ্যগুলো আছে, সেগুলো যাতে সঠিকভাবে মজুত করার ব্যবস্থা করেন।’