দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ঢাকায় মাদকের চালান আনার সময় পথে থাকা একাধিক গ্রুপ (লাইনম্যান) আগেভাগে রাস্তার নিরাপত্তার বিষয়ে জানিয়ে দিতো মাদক বহনকারী গ্রুপকে। এভাবে একাধিক প্রটোকল মেইনটেন করে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোনও বাধা ছাড়াই অবাধে মাদক আনা হতো রাজধানীতে। আর মূলহোতা রুবেল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাদকচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করতো। এসব তথ্য জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
রবিবার (৩০ অক্টোবার) রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা ও সাভারের বিরুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তর।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল এসব তথ্য জানান। এলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে (উত্তর) সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতাররা হলো— রুবেল (৩২), ফারুক দেওয়ান (৩০), নুর উদ্দিন দেওয়ান (৪৫) ও রাব্বি (২১)। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৯ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল বলেন, ‘গত দুই মাস আগে রুবেলের নেতৃত্বাধীন এই মাদক সিন্ডিকেটের সন্ধান পায় অধিদফতর। পরে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালালে তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর চক্রটি গাঁজার একটি বড় চালান হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উত্তরায় নিয়ে আসছে বলে তথ্য আসে। সেই তথ্যের সূত্র ধরে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ রোডে অবস্থান নেয় ঢাকা মেট্রোর একটি টিম। গাঁজা নিয়ে আসার সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারের গতি রোধ করে ২০ কেজি গাঁজাসহ আসামিদের আটক করা হয়।’
তিনি জানান, পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এই চক্রের প্রধান রুবেলের তথ্য। এরপর অভিযান চালানো হয় রুবেলের বাড়িতে। এসময় সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সামাইর গ্রামে রুবেলের বাড়ি থেকে ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ম্যাগাজিনসহ একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা গ্রেফতারকৃত রুবেল জানায়, সাভারে মাদক ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করতে সে এই অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। তবে কীভাবে, কার মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওযা গেছে।
ব্যবসার কৌশল
রুবেলের নেতৃত্বে সাভার ও উত্তরা এলাকায় এই সক্রিয় চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করতো। মূলহোতা রুবেল তার বাকি তিন সহযোগীর মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করতো। নিজ এলাকায় মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য রুবেল অস্ত্র সংগ্রহ করে আসছিল বলে স্বীকারও করেছে।
জানা গেছে, এই চালানের আগেও হবিগঞ্জ, বাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা থেকে তারা গাঁজার একাধিক চালান ঢাকা আনে। তারা প্রতি কেজি গাঁজা ৫০ হাজার টাকা দরে কিনে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতো।
লাইনম্যান ব্যবহার
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতার জানায়, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গাঁজা পরিবহনের সময় তারা একাধিক প্রটোকল মেইনটেন করে আসছিল। তাদের একটি গ্রুপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন টহল টিম ও চেকপোস্ট সম্পর্কে অপর গ্রুপকে (মাদক পরিবহনকারী) ক্লিয়ারেন্স দিলে তারা ঢাকামুখী হয়। এভাবে তারা হবিগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত তাদের ভাষায় লাইনম্যান ব্যবহার করে তথ্য জেনে নিরাপদে মাদক পরিবহনকরে আসছিল।
গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতারের এই কর্মকর্তা।