বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন সুষ্ঠু পথে রয়েছে উল্লেখ করে বিশিষ্টজনরা বলছেন, ‘সরকারি খাদ্যের মজুদ এখন পর্যন্ত যৌক্তিকভাবে ভালো। তবে কৃষকদের প্রণোদনা রক্ষা করতে সার, ডিজেল এবং ফিড খরচ সহায়তার জন্য একটি সম্মিলিত নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।’
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এমন পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে ফ্রেড্রিখ নোমান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম (এফএনএফ) এর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ইউক্রেনের যুদ্ধ: বাংলাদেশ/দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তার উপর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তারা এমন পরামর্শ দেন। সংস্থাটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আলোচনায় প্রধান বক্তা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডলের বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প বৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতের খাদ্য শিল্পকে জড়িত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে এফএনএফ এর জার্মানি, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সহকর্মী কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, উন্নয়ন অংশীদার এবং এফএনএফ অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। এফএনএফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. নাজমুল হোসাইন অর্থনীতি ও সমাজে গত ১০ বছরে এফএনএফ এর উপস্থিতির প্রভাব এবং আগামী বছরগুলিতে বাংলাদেশে কীভাবে সংগঠনটি একটি অর্থবহ অবদান রাখতে পারে তা তুলে ধরেন।
ড. নাজমুল বাংলাদেশে এফএনএফ এর উপস্থিতিকে বেশ সফল বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘সংগঠনটি সুশাসন; বাজার অর্থনীতির প্রচার; এবং ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন এর মতো তিনটি বিস্তৃত ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য গোষ্ঠীর সাথে কাজ করছে। এফএনএফ বাণিজ্যের উন্নতির জন্য সংলাপ এবং নীতি সংস্কারের পক্ষে কাজ করছে। এফএনএফ ই-কমার্স, উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং এসএমই-এর বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছে। এফএনএফ তথ্য অধিকার আইন এবং নাগরিকের অংশগ্রহণে সংলাপ প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় শাসনের উপর জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এফএনএফ ডিজিটাল নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা, গোপনীয়তার অধিকার এবং ইন্টারনেট শাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকেও সমর্থন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে এফএনএফ তরুণদের মধ্যে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্বকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রচারে কাজ করছে।
এফএনএফ বাংলাদেশের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশীদার হচ্ছে তথ্য কমিশন বাংলাদেশ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, ডিনেট, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, প্রিনিউর ল্যাব ইয়ুথ অ্যান্ড ইনোভেশন ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ড. নাজমুল তার বক্ত্যবে জানান, আগামী বছরগুলোতে এফএনএফ তরুণ জনগোষ্ঠী এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন জানোস্কি এবং এফএনএফ দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক পরিচালক ড. কার্স্টেন ক্লেইন বাংলাদেশে এফএনএফ এর ১০ বছরপূর্তি উপলক্ষে অভিনন্দন ও কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।