ইজারা বাতিলের দাবিতে দোকানপাট বন্ধ রেখে কর্ম বিরতি পালন করেছেন কাপ্তান বাজারের (ঠাটারি বাজার) ব্যবসায়ীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইজারা বাতিলের দাবিতে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাপ্তানবাজার নতুন করে ইজারা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এস আর এম লুৎফুর রহমান আকন্দ সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, কাপ্তান বাজারের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারাধীন সিভিল রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির দখল এবং অবস্থানের ওপর হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ জারি করেছেন। কিন্তু গত ২৮ নভেম্বরে সিটি করপোরেশন থেকে নতুন করে ইজারা নেওয়া এই বাজারের ইজারাদার কামরুজ্জামানের লোকজন মাইকিং করেছে, বাজারটি সিটি করপোরেশন তাদের ইজারা দিয়েছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের ইজারাদারকে নিয়মিত টোল দিয়ে ব্যবসা করতে হবে, যা উচ্চ আদালতের নির্দেশনার অবমাননা স্বরূপ। মূলত এর প্রতিবাদেই দোকান মালিকরা দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রেখে কর্মবিরতি ও ইজারা বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাপ্তান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, এতো দিন শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। এখন এই পুরো মার্কেট নাকি সিটি করপোরেশন ইজারা দিয়েছে। গতকাল একদল লোক এসে বললো, তারা ইজারা নিয়েছে। এখন থেকে তাদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। এই বাজারের আগের মামলা এখনও হাইকোর্ট থেকে নিষ্পত্তি হয়নি। তার আগেই নাকি সিটি করপোরেশন ইজারা দিয়ে দিয়েছে।
এদিকে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকজনদের। তরিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজার করতে এসে দেখি দোকানপাট বন্ধ। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি। এখনও বাজার করতে পারেনি। কী হয়েছে জানা নেই। ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার অনুরোধ করলেও কেউ দোকান খোলেনি। তারা বলছে, ঝামেলা না মেটা পর্যন্ত দোকান খুলবে না। আমিসহ অনেক ক্রেতা দোকান খোলার অপেক্ষায় আছি।’
আলী হোসেন নামে কাপ্তান বাজারের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরাদৈনিক মজুরিতে প্রতিদিন মালসামানা আনা-নেওয়ার কাজ করি। যা পাই তা দিয়ে পরিবার নিয়ে কোনমতে চলতে পারি। আজ দোকান মালিকরা দোকান বন্ধ রাখায় কোনও কাজ করতে পারিনি। এ জন্য কোনও উপার্জন হয়নি। এভাবে হুট করে দোকান বন্ধ রাখায় মালামাল কিনতে আসা লোকজন ফিরে যাচ্ছে। কেউ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছে। আমরা চাই, প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝামেলার সুষ্ঠু সমাধান হোক।