শিশুর প্রাক-শৈশবকালীন সময় সঠিক বিকাশ নিশ্চিতে প্যারেন্টিং এডুকেশন নিশ্চিত করতে নীতিগত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস-২০২২ উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকি হ্রাসে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিতে প্যারেন্টিং এডুকেশন’ শীর্ষক সংলাপে এ দাবি উঠে আসে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ: প্রবেশগম্য ও সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে উদ্ভাবনের ভূমিকা’।
সংলাপে বক্তরা বলেন, প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি রোধে শিশুর জন্মের আগে থেকেই সতর্কতা গ্রহণ জরুরি। শিশুর প্রাক-শৈশবকালীন সময় সঠিক বিকাশ নিশ্চিতে প্যারেন্টিং এডুকেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ এডুকেশনকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন। অভিভাবক এবং সম্ভাব্য অভিভাবক সবাইকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সরকার ও মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সংলাপে এমেরিটাস অধ্যপাক এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের চেয়ারপার্সন ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘প্রাক-শৈশবকালীন বিকাশ নিশ্চিতে বাংলাদেশে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি তাদের বিকাশের প্রতি আরও নজর দিতে হবে। সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংলাপে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সৈয়দ মামুনুল আলম বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি হ্রাসে শিশু বিকাশ এবং প্যারেন্টিং এডুকেশন কারও একার কাজ নয়, এটা সবার কাজ। সবার মতামত, পরামর্শ, নীতিগত উদ্যোগ অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’
মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সালেহা বিনতে সিরাজ প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকি হ্রাসে প্রাক-শৈশবকালীন বিকাশ নিশ্চিতে প্যারেন্টিং এডুকেশনকে এগিয়ে নিতে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর-২০২২ সালের তথ্যমতে, প্রতিবন্ধিতার শিকার মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতিবন্ধিতা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ ও সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো প্যারেন্টিং এডুকেশন। এর মাধ্যমে মা-বাবাকে শিশুর যত্নে যথাযথভাবে সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব।
যেকোনও মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় তার প্রাক-শৈশবকাল, অর্থাৎ শূন্য থেকে পাঁচ বছর। এ সময় একজন মানুষের মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ বিকাশ ঘটে। এ সময় সামান্যতম অবহেলা হতে পারে শিশুর জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ।
আলোচনাটির সঞ্চালক ছিলেন মালালা ফান্ডের ইন-কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোশারফ হোসেন তানসেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক মঞ্জুর হোসেন।