বাংলাদেশে সর্বজনীন জন্মনিবন্ধন ত্বরান্বিত করতে রবিবার (১১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করেছে ইউনিসেফ।
এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা।
ইউনিসেফ জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে শিশুদের আনুষ্ঠানিক জন্মনিবন্ধনের হার কমই রয়ে গেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৫৬ শতাংশের জন্ম নিবন্ধিত। এর অর্থ প্রতি দুই জনের মধ্যে একজন শিশুর জন্মসনদ নেই। অপরদিকে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি। চুক্তিটি আজ একটি সমন্বিত পদ্ধতির পথ প্রশস্ত করেছে, যেখানে জন্মের সময় শিশুর নিবন্ধন না হয়ে থাকলে, প্রথম টিকা নেওয়ার সময় নিবন্ধিত করা হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘জন্মের সময় নিবন্ধন প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। আমি বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানাই—এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ শিশু উপকৃত হবে।’
জন্মসনদ জাতীয়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষাসহ অন্য সব ধরনের অধিকার দাবি করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বাংলাদেশে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের জন্মনিবন্ধনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়, বা এই প্রক্রিয়া তাদের হতবিহ্বল করে দেয়।
রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) রাশেদুল হাসান বলেন, ‘জন্ম মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আজকের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নির্ভুল ও দ্রুততম করবে। একইসঙ্গে তা শিশুর অধিকার রক্ষাসহ পরিচয় নির্বিশেষে সবার জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
ইউনিসেফের সহযোগিতায় জন্মনিবন্ধন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা তথ্যভাণ্ডারের এই সমন্বয় ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সর্বজনীন জন্মনিবন্ধনের আওতায় আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ইউনিসেফ ২০১০ সালে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন চালু করাসহ ২০০১ সাল থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সর্বজনীন জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দিয়ে আসছে।