আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম সম্মেলন। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন সারা দেশ থেকে আগত তৃণমূল নেতাকর্মী ও কাউন্সিলররা। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরইমধ্যে সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক দফা জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল বেশ কয়েকবার সুইপিং করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি কোনও সংখ্যার মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। একদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন, অপরদিকে এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনস্থল এবং প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রাখা দরকার, সে অনুযায়ী মোতায়েন থাকবে।
পুলিশ জানায়, সারা দেশ থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি এবং নেতাকর্মীরা রাজধানীতে আসবেন। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাধিক গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। নেতাকর্মীদের গাড়ি কোথায় পার্ক করা হবে, নেতাকর্মীদের নিয়ে যেসব বাস ঢাকায় আসবে, এলাকাভিত্তিক পার্কিং কোথায় করা হবে, এসব বিষয় এরইমধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ বলছে, কাকরাইল ও প্রেস ক্লাব হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে মৎস্য ভবন মোড়ে ডাইভারশন দেওয়া হবে। এছাড়া ডাইভারশন থাকবে শাহবাগ ও কাঁটাবন মোড়েও। নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষ যারা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আসবেন, তারা হেঁটে টিএসসির পাশ দিয়ে একাধিক গেট ব্যবহার করে সমাবেশস্থলে ঢুকতে পারবেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট ও শিশু পার্কের মাঝামাঝি দুটি গেট থাকবে ভিআইপি এবং ভিভিআইপিদের জন্য।
ডিএমপির রমনা ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়িতে আসবেন। কোন এলাকার গাড়ি কোন জায়গায় রাখা হবে, তার আজকালের মধ্যেই নির্দেশনা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভেন্যুকেন্দ্রিক ট্রাফিক নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
সম্মেলনকে ঘিরে তৎপর শাহবাগ থানা
আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে যেকোনও বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শাহবাগ থানার অধীনে হওয়ায় সেখানে যেকোনও অনুষ্ঠান, সভায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে থানার কর্মকর্তাদের।
ওসি নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবো। এ বিষয়ে আজ সাড়ে ৩টায় বৈঠক হবে। সেখানেই যাচ্ছি। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সেভাবেই কাজ করবো।’
এছাড়াও দেখা যায়, থানার ডিউটি অফিসাররা ছাড়া অধিকাংশ কর্মকর্তা বাইরে দায়িত্বে রয়েছেন। ডিউটি অফিসারদেরও দেখা গেছে ব্যস্ত সময় পার করতে।
থানার প্রধান ফটকে ঢুকতেই চোখে পড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী, মাটির বস্তা দিয়ে তৈরি বাংকার। গেটের বাইরে-ভেতরে এবং থানার চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালনে তৎপর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহবাগ থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব প্রোগ্রামের সব দিকনির্দেশনা আসে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) থেকে। উনারা যেভাবে চায় সেভাবে আমরা সহায়তা করি। কোথায় কয়টা গেট হবে, কোথায় কী প্রয়োজন, যেভাবে নির্দেশ দেয় সেভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা গেটে ডিউটি করি। এছাড়া ভেতরের পুরোটা থাকে এসএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে। আমাদের কাছে নির্দেশনা থাকে এবং আগেই বলে রাখা হয় থানার কোন অফিসার কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ সদস্যরাও প্রস্তুত থাকেন। এভাবেই আমরা প্রস্তুত থাকি এবং দায়িত্ব পালন করি।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম