ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা দেওয়া রসুলবাগ শিশু পার্কের কফি হাউজ দখলের অভিযোগ উঠেছে ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে। ইজারাগ্রহীতা কাজী খুরশিদা খান অভিযোগ করেন, গত জুলাই মাসে কফি শপটি এক বছরের জন্য ইজারা পেলেও কাউন্সিলর মানিকের বাধার কারণে এখন পর্যন্ত দখল নিতে পারেননি।
এ সমস্যার সমাধান চেয়ে গত ১৬ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর অভিযোগ জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ (সিটি করপোরেশন) এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী করপোরেশন সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যবসা পরিচালনা কাউন্সিলদের অযোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু কাউন্সিলর মানিকের দাবি, ইজারাগ্রহীতা এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ব্যবসা পরিচালনার সম্মতি দিয়েছেন।
দক্ষিণ সিটি থেকে গত ৭ জুলাই জারি করা কার্যাদেশ সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের আজিমপুরের রসুলবাগ পার্কের পাশে একটি ভবনের চারতলায় অবস্থিত কফি হাউজটি সর্বমোট এক লাখ টাকায় কাজী খুরশিদা খান বরাবর এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) এই প্রতিবেদক রসুলবাগ পার্কের কফি শপটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় কফি শপে কাজ করা একজন নিজেকে মাসুম বলে পরিচয় দেন। কফি শপটি পরিচালনার দায়িত্বে কে আছেন প্রশ্নে তিনি জানান, এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানিক সাহেব এটি পরিচালনা করছেন।
কাজী খুরশিদা খান অভিযোগ করেন, ‘ইজারা পাওয়ার পর থেকে কাউন্সিলর আমাদের বলতে থাকেন—আপনি এখানে ব্যবসা করতে পারবেন না। কীভাবে ব্যবসা করেন আমি দেখবো! এরপর থেকে তার লোকজনই এটা চালাচ্ছেন। এক পর্যায়ে কাউন্সিলরের শর্তে রাজি হই। সে সময় দক্ষিণ সিটির সংরক্ষিত আসন-৭ এর কাউন্সিলর শিরিন গাফফারসহ কয়েকজনের মধ্যস্থতায় আমাকে এক লাখ টাকার একটি চেক দেন তিনি। গত ২০ ডিসেম্বর চেক দিয়ে টাকা উঠাতে গিয়ে দেখি ওই অ্যাকাউন্টে টাকা নাই।'
এ বিষয়ে কাউন্সিলর শিরিন গফফার বলেন, ইজারাগ্রহীতার অভিযোগ সত্য।
ইজারাগ্রহীতা ধানমন্ডি থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমি দাবি করেছি—এটা ইজারার নিতে আমার এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে, সাথে ৫০ হাজার টাকা লাভ দেন কিন্তু তিনি তা দেবেন না। আমি এখন নিজেই কফি শপটি চালাতে চাই কিন্তু তিনি দখল ছাড়ছেন না।’
ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উনি মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। ওনার সাথে কথাবার্তা হয়েছে। কফি শপটি তো চলেই না, উনি পারবেন না। পরে এক মধ্যস্ততায় আমি তাকে এক লাখ টাকার একটি চেক দেই।’
ব্যাংক অ্যাকউন্টে টাকা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টাকার সমস্যা থাকতে পারে। ওনি আসুক, এ মাসে দিয়ে দিবো।’
আইন অনুযায়ী আপনি এরকম ব্যবসা চালাতে পারেন না জানতে চাইলে কাউন্সিলর মানিক বলেন, ‘না না, আমি চালাচ্ছি না। ওই জায়গায় একটা লোক অনেক কষ্ট করে। ওনাকে আমি বলেছি, আপনি চালান, আমি ভর্তুকি দেবো’।
তিনি আরও বলেন, 'ইজারাগ্রহীতা বুঝতে পেরেছেন এখানে ব্যবসা করে লাভ হবে না। তাই ওনি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি টানিয়েছিলেন। এভাবে পার্কের মধ্যে নোটিশ টানিয়ে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম নেই। তারপরও আমি বলছি, আপনি করেন। তারপর ওনার সাথে বসেই এটি সমাধান করেছি।'
শর্তভঙ্গ করে কেন ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিলেন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'ইজারার শর্ত লঙ্ঘন হলে তা করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ দেখবে।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন এ নিয়ে মোবাইলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা গত বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'মেয়র এটা আজকে (বৃহস্পতিবার) ইজারাগ্রহীতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।'