চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাংবাদিক আবু আজাদকে নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যম পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি যেমন উদ্বেগজনক, তেমনই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অবৈধ ইটভাটা প্রকৃতির জন্য মারাত্মক হুমকির। বিষয়টির সার্বিক অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। গত ২৬ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘রাঙ্গুনিয়ায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক, জিম্মির দেড় ঘণ্টা পর মুক্তি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের স্টাফ করেসপনডেন্ট আবু আজাদ। ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে স্থানীয় মেম্বার মহিউদ্দীন তালুকদার (মোহন) এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনায় সাংবাদিক আবু আজাদ জানান, তিনি রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মঘাছড়িতে পৌঁছান। সড়কের পাশে মাটি তুলে নামহীন ইটভাটার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় মেম্বার মহিউদ্দীন তালুকদার (মোহন) পাঁচ-ছয় জন লোক নিয়ে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করেন। এরপর তাকে একটি সাদা রঙয়ের গাড়িতে তুলে মঘাছড়ি বাজারে নিয়ে যান। সেখানে প্রকাশ্যে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করেন। পরে কার্যালয়ে নিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেন। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। বিকাশ থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবিসহ তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।