বিশেষজ্ঞ মতামত

তামাকে বছরে এক লাখ মানুষের মৃত্যু

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের কোনও বিকল্প নেই। কারণ এসডিজি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে তামাক।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও তামাকবিরোধী নেতারা এসব কথা বলেন। ‘টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি আয়োজন করে প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এবং ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) প্রজ্ঞা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞা জানিয়েছে, ভার্চুয়াল বৈঠকে জানানো হয়, দেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আর পঙ্গুত্ববরণ করে আরও কয়েক লাখ মানুষ। তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্য এবং অসুস্থতা এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা-সুস্বাস্থ্য অর্জনের একটি বড় বাধা।

বাংলাদেশে যারা তামাক ব্যবহার করে তাদের পরিবারের মাসিক খরচের ৫ শতাংশ তামাকে এবং ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয় বলে বৈঠকে জানানো হয়। তামাক ব্যবহারে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ছে বলে বৈঠকে আলোচকরা জানান।

তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য ব্যয় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তামাক চাষে ব্যবহৃত মোট জমি এবং উৎপাদিত তামাক পাতার পরিমাণ– এই দুই বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ১৪তম এবং ১২তম। ক্রমবর্ধমান তামাকচাষের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি (লক্ষ্যমাত্রা-২) ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট ৭১ বিলিয়ন সিগারেট শলাকা উৎপাদিত হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।