পুলিশকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: প্রধান বিচারপতি

সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

পুলিশ সপ্তাহ–২০২৩ এর ৬ষ্ঠ ও শেষ দিনে রবিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে জনগণ অবৈধ অস্ত্রধারী ও বিভিন্ন তথাকথিত বাহিনী এবং দুষ্কৃতিকারীদের অত্যাচারে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারতো না। সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দুষ্কৃতিকারী ও আইন ভঙ্গকারীদের দমনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং জীবন উৎসর্গকে এদেশের মানুষ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আপনারা সেই বীর পুলিশের উত্তরসূরি যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্র বিনির্মাণে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামাজিক ও জননিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় অন্যান্য জাতীয় দায়িত্ব পালনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের আজকের এই গতিশীল অবস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে সূচনালগ্নে দেশমাতৃকার রক্ষার্থে বিজয় কেতন ওড়ানোর সুদৃঢ় প্রত্যয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। বীরদর্পে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাশাপাশি সুনিপুণ রণকৌশল প্রণয়ন ও অস্ত্র সরবরাহ, সাধারণ জনগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান ও জনমত গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশ পুলিশ এ দেশের ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের মতো বিচরণ করছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠায় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সুদৃঢ়করণের অংশ হিসেবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগ ও বাংলাদেশ পুলিশ পারস্পরিক সহযোগিতার আদলে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতের বিভিন্ন নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

ওই সময়, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার সভায় উপস্থিত ছিলেন।