চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মামলায় নিহতের স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও নোবেলের বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি)ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিচারক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের আদালতে মামলার বাদী হারুনুর রশীদ সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা শুরু করেন। তবে তাদের জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৯ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর (৩৫) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করেন শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ।

তদন্ত শেষে একই বছরের ২৯ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানিগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৮টায় আসামী নোবেলের বাল্যবন্ধু ফরহাদ নোবেলের বাসায় আসেন। কলিং বেলের শব্দ শুনে নোবেলের স্ত্রী শিমু দরজা খুলে ফরহাদকে ড্রইং রুমে বসতে দিয়ে বেড রুমে গিয়ে নোবেলকে ফরহাদের আসার সংবাদ দেন। নোবেল ড্রইং রুমে গিয়ে ফরহাদের সঙ্গে দেখা করে তাকে চা খাওয়ার কথা বলে। নোবেল কিচেন রুমে চা বানাতে যান। নোবেল চা বানাতে থাকা অবস্থায় শিমু বেড রুমে বসে মোবাইল ফোন দেখতে থাকেন। নোবেল শিমুর মোবাইল ফোন দেখতে চাইলে তিনি  মোবাইল ফোন দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে শিমু ফ্লোরে পরে যান এবং নোবেল শিমুর গলার ওপর পা দিয়ে দাঁড়ান। এতে শিমু মারা যান। তখন শিমুর মৃতদেহ লুকানোর পরিকল্পনা করতে থাকেন তারা। এরপর তারা শিমুর মরদেহ বস্তায় ভেতরে ভরে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে দুটি বস্তা একত্রে সেলাই করেন। পরবর্তীকালে ফরহাদ শিমুর মৃতদেহ নোবেলের গাড়ির পেছনের সিটে ওঠায়। এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আলীপুর ব্রিজ এলাকার ঝোপে লাশ ফেলে দেন।