বিমানবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেভাবে গাড়ি থামিয়ে চেক করে না। এই সুযোগে নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে করে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সময় সেই গাড়িতে মাদক বহন করতো গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা (৩০)। পরবর্তীতে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় মাদক সরবরাহ করতো। ২০১৭ সাল থেকে সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে র্যাবকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে অভিযান চালিয়ে এর ভেতর বস্তার মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৫৮১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফেনসিডিল পাচার চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর সোহেল রানা কিছুদিন বেকার থাকে। ২০১১ সালে দুবাই গিয়ে একটি শপিং মলে সেলসম্যান হিসেবে চাকরি পায়। কিন্তু প্রবাস জীবনে সন্তুষ্ট হতে না পারায় এবং মাদক ব্যবসার প্রতি আকর্ষণ থাকায় চার বছর পর ২০১৫ সালে দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে সে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা তাকে মাদক পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলে। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে নোয়াখালীর একটি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাইভেটকার চালানো শিখে।’
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আরও জানান, ‘প্রতি চালানে সোহেল রানা ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার বোতল ফেনসিডিল বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিতো। বিভিন্ন সময় গাঁজা ও ইয়াবার একাধিক চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজার একটি চালান নিয়ে রাজধানীতে আসার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানা এলাকায় র্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দলের হাতে গ্রেফতার হয় সে। তিন মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে।’