উচ্চশব্দ একটি নীরব ঘাতক। এতে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় ও স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মাথা ব্যথাসহ মনোসংযোগেও ব্যাঘাত ঘটে। নানান রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় শব্দ দূষণ। শব্দের দূষণ প্রতিরোধে দরকার সচেতন একটি সমাজ।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।
ইকিউএমএস কনসালটিং ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) আয়োজিত সভায় অংশ নেয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, ডাক্তার, সংবাদকর্মী, গাড়ি চালক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য অ্যাডভোকেট খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বলেন, ‘উচ্চশব্দ একটি নীরব ঘাতক। এতে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় ও স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মাথা ব্যথাসহ মনোসংযোগেও ব্যাঘাত ঘটে। উচ্চমাত্রার শব্দের স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশুদের পাঠ্যক্রমে যদি এটি অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তারা সচেতন হয়ে গড়ে উঠবে। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ করতে হবে। জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আমারা যেভাবে কাজ করছি, ঠিক একইভাবে শব্দ দূষণ নিয়ে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল আলম দূষণ রোধে প্রযুক্তি ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শব্দমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যেম উচ্চস্বরের শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাস্তার পাশে সাউন্ড বেরিয়ারের জন্য গাছ লাগালে দূষণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। ডিটিসিএ এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।’
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগে দূষণের উৎস চিহ্নিত করতে হবে। পরিবেশ অধিদফতর, বিআরটিএ, বিআরটিসি, পুলিশ, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ সবার দায়িত্ব দূষণ প্রতিরোধ করা।’
স্থপতি মোহাম্মদ আলী নকীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্ত্যব্য দেন, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক হুয়ায়ুন কবির সুমনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিকরা।