ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার ধনতলা, পারিয়া ও চারোল ইউনিয়নের ১২টি মন্দিরের ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় জাতীয় হিন্দু মহাজোট গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গিতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে আমরা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বালিয়াডাঙ্গি উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং হিন্দু মহাজোটের স্থানীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ঘটনার পূর্বাপর জানার চেষ্টা করি। এ সময় তারা নিশ্চিত করেন যে, স্থানীয় হিন্দু- মুসলমানদের মধ্যে এ ঘটনায় কোনো উত্তেজনা বিরাজ করছে না। বরং প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা চিহ্নিত করেন। বালিয়াডাঙ্গি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী হিন্দু এবং জনপ্রতিনিধিরাও হিন্দু সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হিন্দু-মুসলমানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দু মহাজোট ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রসাশন ও পুলিশ প্রশাসনের নজরে এনে আক্রান্ত মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা বিধান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার-পূর্বক আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনাটিতে সর্বাগ্রে হিন্দু মহাজোট হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সরকার যেহেতু বিষয়টি আমলে নিয়ে স্থানীয় প্রসাশন ও পুলিশের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তাই আমরা সরকারের এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারি গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি অ্যাড. দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাড. প্রদীপ কুমার পালসহ প্রমুখ।