চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে মতবাদের যে সংঘর্ষ চলছে, সেই চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে প্রভাবিত করছে। এ কারণে বাংলাদেশকে এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ওয়াশিংটন কনসেনসাস ও বেইজিং কনসেনসাসের মধ্যে একটি সংঘর্ষ দেখতে পাচ্ছি।’
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের আয়োজনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দুই মতবাদের মধ্যে দুটি মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। ওয়াশিংটন কনসেনসাস (ঐকমত্য) গণতন্ত্র, আইনের শাসনসহ অন্যান্য মূল্যবোধের কথা বলে থাকে, যা আমরা সব সময় শুনতে পাই। পশ্চিমারা বলে থাকে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত সরকার দেশ চালাবে। অন্যদিকে বেইজিং কনসেনসাস প্রচার করে যে একটি পার্টি পুরো দেশকে শাসন করবে এবং দেশের পুরো কাঠামো পার্টির অধীনে থাকবে। বেইজিং কনসেনসাস মানবাধিকারকে স্বীকার করে না।’
চীন ও পশ্চিমা শক্তি উভয়ই শক্তিশালী এবং জোট গঠনের চেষ্টা করছে এবং এর প্রভাব সব জায়গায় পড়ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই জায়গায়। এটি হচ্ছে মতবাদের সংঘর্ষ এবং এটি নির্দিষ্ট কোনও যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং সারা পৃথিবীতে এটি অনুভূত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নেই। এই কারনে এই বিষয়টি অনেক সময়ে চোখের আড়ালে থাকে। ইন্দো-প্যাসিফিক বা কোয়াড বা বিআরআই হচ্ছে ওই মতবাদ সংঘর্ষের বিভিন্ন মডেল।’
বিছিন্ন থাকার সুযোগ নেই
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে ২০১৩ থেকে চীন ৯৬২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোডে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে ভারত বিআরআইয়ের বিষয়ে সন্দিহান কারণ চীনের ওই উদ্যোগ অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে না।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বিআরআইয়ের যে চারটি বড় প্রকল্প আছে, সেটির অন্তত দুটিতে বাংলাদেশ অংশীদার। এ জন্য চীনের কাছে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলো এ জন্য চিন্তিত যে বাংলাদেশ চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে কি না।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমরা বৈশ্বিকভাবে বিছিন্ন থাকতে পারবো না। আমরা এটি বলতে পারবো না যে আমরা নিরপেক্ষ থাকবো বা কোনও পক্ষ নেবো না।’
এ জন্য বাংলাদেশকে ভালো জিমন্যাস্ট হতে হবে এবং ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, এটি নীতির বিষয় নয়, বরং আমদের কূটনীতি বিশ্বকে কীভাবে দেখাই, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
মো. শহীদুল হক বলেন, ‘এখানে মাল্টিপল ব্যালান্সিং করতে হবে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে একই সঙ্গে ভারসাম্য করতে হবে। একসময় চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য করতাম। এখন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে অনেক বেশি সোচ্চার এবং সে কারণে সেখানেও ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’