নীরবেই কেটে গেলো স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

অনেকটাই নীরবে কেটে গেলো স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। ওই শিক্ষানীতি বাতিলের প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ছিল মুখর।

শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ও আহত হয় কয়েকজন। এরপর থেকে এই দিনটিকে পালন করা হয় স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা ভবনের মোড়ে শিক্ষা অধিকার চত্বরে তাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। যদিও অধিকাংশ বড় দলই দিনটিকে কেন্দ্র করে কোনও কর্মসূচি না রাখায় অনেকটা নীরবে কেটে গেছে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।

মঙ্গলবার বিকালে গিয়ে দেখা যায়, শহীদদের স্মরণে গড়া স্তম্ভটিতে একটি ফুলের তোড়াও নেই। আশেপাশের জায়গা ভাসমান মানুষের দখলে রয়েছে।  ধুলো-বালু গায়ে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ শিক্ষা স্মৃতিস্তম্ভ। যদিও সকাল সাড়ে ৮টায় স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র পরিষদের  (১৯৮২-১৯৯০) পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন সাবেক ছাত্রনেতা ডা. হারুন অর রশিদ, ফয়জুল হাকিম, কাইউম হোসেন, নাসিরুদ্দিন এলান প্রমুখ।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ৮০ দশকের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সংগঠক ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘নব্বইয়ে ছাত্র-শ্রেণি-পেশার জনগণের নাগরিক গণঅভ্যুত্থানে সামরিক স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। কিন্তু জনগণের হাতে ক্ষমতা আসেনি। দেশে বর্তমানে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা উচ্ছেদ হয়ে এক চরম ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছে। এই ফ্যাসিবাদী শাসন উচ্ছেদের সংগ্রামে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আন্দোলন আজও শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।’

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'গণতন্ত্র মুক্তির ডাক দিয়ে যায়, মধ্য-ফেব্রুয়ারির স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার আয়োজন করে ৮২-৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। স্বৈরাচার প্রতিরোধ আন্দোলনের তৎকালীন নেতাদের মধ্যে সভায় বক্তব্য রাখেন— ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সাবেক ছাত্রনেতা কবি মোহন রায়হান, সিরাজুম মুনীর, বীণা শিকদার প্রমুখ।

এছাড়া, দিবসটিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা অধিকার চত্বরে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি  ওই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রতিবাদ সমাবেশে গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে নিহত হন জাফর, জয়নাল, দীপালী, মোজাম্মেল, আইয়ুব ও কাঞ্চন। আহত হন আরও অনেকে। ছাত্র-জনতার তখনকার সেই আন্দোলনের মুখে বাতিল করতে হয়েছিল সেই শিক্ষানীতি। সেই কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।